Posts

কোষ ( Cell )

Image
কোষ ( Cell ) কোষ হল জীবদেহের গঠনমূলক এবং জৈবনিক ক্রিয়ামূলক একক । সমস্ত জীবদেহই এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত । জীবদেহের সমস্ত জৈবিক ক্রিয়াগুলি কোষের মধ্যেই সম্পন্ন হয় । প্রত্যেক জীবের জীবনযাত্রা শুরু হয় একটি মাত্র কোষ থেকে ৷ 1665 সালে বৃটিশ প্রযুক্তিবিদ রবার্ট হুক ( Robert Hooke , 1635-1703 ) নিজের তৈরী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ওক গাছের কর্কের পাতলা ছেদ থেকে প্রথম কোষ আবিষ্কার করেন । কিন্তু সেটি ছিল মৃত কোষ। পরবর্তী কালে 1774 খ্রিস্টাব্দে ডাচ বিজ্ঞানী লিভেন হুক প্রথম সজীব কোষ আবিষ্কার করেন। 1833 খ্রীষ্টাব্দে জার্মান উদ্ভিদবিদ্ স্লেইডেন ( Schleiden ) এবং 1839 খ্রীষ্টাব্দে প্রাণিবিদ্ সোয়ান ( Schwann ) বলেন– " প্রতিটি জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত । কোষ হল জীবদেহের গঠনমূলক ও ক্রিয়ামূলক একক । " সবচেয়ে ক্ষুদ্র কোষ হল মাইকোপ্লাজমা গলিসেপটিকাম ( Mycopasma-golisepticum ) ব্যাকটিরিয়ামের কোষ ( 0.1 μm ব্যাসবিশিষ্ট ) এবং সবচেয়ে বড় কোষ হল উটপাখির ডিম ( 170mm - 125mm ব্যাসবিশিষ্ট ) । মানবদেহের সবচেয়ে ছোট কোষ হল শ্বেতকণিকা ( 3-4 μm ) এবং দীর্ঘতম কোষ হল স্নায়ুকোষ ( 1 মিটার ) । একজন পূর্ণবয়স্ক

পাল ও সেন বংশের কয়েকজন রাজা

৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে গৌড় রাজ্ শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় ১৫০ বছর বাংলায় মৎস্যন্যায় চলতে থাকে। এর হাতথেকে বাংলাকে উদ্ধারের জন্য পাল রাজ গোপাল এর কৃতিত্ব। পাল রাজা গোপাল ( ৭৫০-৭৭০ খ্রি. ) : পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ধর্মপাল ( ৭৭০-৮১০ খ্রি. ) : পাল বংশের শ্রেষ্ট রাজা। ত্রি-শক্তির যুদ্ধ ( বাংলার পাল , দাক্ষিণাত্যর রাষ্ট্রকূট , মালাবের গুর্জর প্রতিহার বংশ ) হর্ষের রাজধানী কৌনজ দখল নিয়ে। প্রতিহার বংশের রাজা দ্বিতীয় নাগভট্ট ধর্মপালকে পরাজিত করে কৌনজ দখল করে। এর পর রাষ্ট্রকূট রাজ তৃতীয় গোবিন্দ নাগভট্টকে পরাজিত করে দক্ষিণে চলে গেলে , সেই সুযোগের সুবিধা নিয়ে ধর্মপাল কৌনজ দখল করে। ধর্মপাল মগধে বিক্রমশীলা মহাবিহার , ওদন্তপুরী বিহার ও সোমপুরী বিহার স্থাপন করে। দেবপাল ( ৮১০-৮৫০ খ্রি. ) : বদাল স্তম্ভলিপিতে তাঁর উত্তর হিমালয় থেকে বিন্ধা পর্বত এবং পূর্ব সাগর থেকে পশ্চিম সাগর সাম্রাজ্যের কথা জানা যায়। দর্ভপানি ও কেদার মিশ্র তাঁর সেনাপতি ছিলেন। তিনি গুর্জর রাজ মিহিরভোজ বা প্রথম ভোজ এবং দ্রাবিড় রাজ রাষ্ট্রকূট অধিপতি অমোঘবর্ষকে পরাজিত করেন। জাভা ও সুমাত্রার শৈলেন্দ্র বংশীয় রাজা বালপুত্রদেব নাল

পৃথিবীর গতি ( The motion of the earth )

Image
পৃথিবীর গতি ( The motion of the earth ) তোমরা লাটু বা বল দেখেছ । টেবিলের ওপর লাটু বা বলটা ঘুরিয়ে দিলে দেখবে তাদের মাঝখান দিয়ে একটা অদৃশ্য রেখা ( অক্ষ ) ঘিরে সেগুলি ঘুরপাক খাচ্ছে । আমাদের পৃথিবীও সূর্যের সামনে নিজ অক্ষ বা মেরুরেখার চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে । পৃথিবীর এই ঘোরাকে আমরা আবর্তন গতি বলি । সুর্যের আকর্ষণে পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট পথে সূর্যের চারদিকে অবিরাম ঘুরছে । পৃথিবীর এই ঘোরাকে আমরা পরিক্রমণ বলি । পৃথিবীর গতি : মহাকাশে অন্যান্য গ্রহদের মতো পৃথিবীও স্থির নয় । সূর্যের আকর্ষণে তার সামনে পাক খেতে খেতে একটি নির্দিষ্ট পথে একটু একটু করে সরে যায় । তাই পৃথিবীর নিজস্ব ২ টি গতি আছে । পৃথিবীর আবর্তন এবং পরিক্রমণ গতি ১. আবর্তন গতি ( Rotation speed) : পৃথিবীর নিজ অক্ষ বা মেরুদণ্ডের চারদিকে লাট্টুর মতো ঘোরার গতি । পৃথিবী সূর্যের সামনে একদিনে একবার নিজ মেরুরেখাকে বেষ্টন করে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘোরে । একে আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতিও বলে । ২. পরিক্রমণ গতি : সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর প্রদক্ষিণ করার গতি । পৃথিবী আবার এক বছরে একবার সূর্যকে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে প্রদক্ষিণ করে

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ

Image
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে বড়লাট ক্যানিং - এর শাসনকালে ( ১৮৫৬-১৮৬২ খ্রিঃ ) ভারতবর্ষের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে, এই বিদ্রোহকে অনেকে সিপাই বিদ্রোহ বা মহাবিদ্রোহ বলে থাকে। এই বিদ্রোেহ ভারতে ইংরেজ শাসনের ভিতকে কাপিয়ে দেয় । এই বিদ্রোহ প্রথম শুরু করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতীয় সৈনিক বা সিপাহিরা । এই কারণে ইউরোপীয় ঐতিহাসিকেরা এই বিদ্রোহকে 'সিপাহি বিদ্রোহ' বলে অভিহিত করেছেন । কিন্তু , এই মত যুক্তিসম্মত নয়, কারন এই বিদ্রোহ ভারতবর্ষের পূর্ববর্তী বিদ্রোহগুলির মতো কোনও স্থানীয় বা বিশেষ কোনও গোষ্ঠীর বিদ্রোহ ছিল না । ভারতের যেমন এক বিস্তীর্ণ স্থানে এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল , তেমনি বিদ্রোহের সূচনার অল্পদিনের মধ্যেই দেশের সর্বশ্রেণি ও সর্বস্তরের মানুষ এতে দলে দলে অংশগ্রহণ করেছিল । কোনও কোনও অঞ্চলে সিপাহিদের অপেক্ষায় না থেকে জনসাধারণ নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্রোহে অংশ নেয় , আবার কোথাও - বা জনতাই সেনাবাহিনীকে বিদ্রোহে যোগদিতে প্রণোদিত করে । তাই এই বিদ্রোহকে 'সিপাহি বিদ্ৰোহ' না বলে '১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ' বলাই যুক্তিসঙ্গত । আসলে এই বিদ্র

নাইট্রোজেন চক্র ( Nitrogen Cycle )

Image
নাইট্রোজেন চক্র ( Nitrogen Cycle ) আমাদের চারপাশের যে জগৎ - আলো , বাতাস , মাটি , জল , গাছপালা , পশু - পাখি , কীটপতঙ্গ ইত্যাদি নিয়েই গঠিত হয়েছে আমাদের পরিবেশ । আমরা এই পরিবেশেরই একটি অংশ । বায়ুর গ্যাসীয় উপাদান যেমন - নাইট্রোজেন , হাইড্রোজেন , অক্সিজেন , কার্বন ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি ; জলজ সম্পদ , যেমন— বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী , মাছ , মুক্তা ঝিনুক ; বনজ সম্পদ , যেমন — বিভিন্ন রকমের গাছপালা , ধুনো , রজন , হিং , পশু - পাখি ; খনিজ সম্পদ , যেমন — কয়লা , পেট্রোল ইত্যাদি এই সমস্তকিছু নিয়ে গঠিত হয় প্রাকৃতিক সম্পদ । আজ মানুষের প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা যেমন - ভূমিকম্প , দাবানল , অগ্ন্যুৎপাত , বন্যা , খরা ইত্যাদির কারণে এবং দূষণের কবলে পড়ে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে । ফলে পৃথিবীর বুকে নেমে আসতে চলেছে ভয়ংকর বিপদ । এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে পরিবেশের সম্পদগুলির সংরক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন । এখানে নাইট্রোজেন চক্রের চিত্র সহকারে ব্যাখ্যা করা হল যা আমাদের পরিবেশের একটি মুখ্য উপাদান। নাইট্রোজেন চক্র ( Nitrogen Cycle ) নাইট্রোজেনের প্রধা

প্রাণীদের সাড়াপ্রদান এবং রাসায়নিক সমন্বয় - হরমোন

Image
প্রাণীদের সাড়াপ্রদান এবং রাসায়নিক সমন্বয় - হরমোন (Response and chemical coordination in animal hormones) প্রাণীদেহের ( যেমন — মানুষ ) বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা এবং হরমোনের ভূমিকা [ Need for regulation of different activities of the animal body ( e.g. , Human ) and the role of hormones ] হরমোনের প্রধান কাজ হল প্রাণীদেহের রাসায়নিক সমন্বয় সাধন করা । হরমোন একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে দূরে বাহিত হয় এবং প্রাণীদেহের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে । যেমন— ( i ) উত্তেজনায় ত্বকের লোম খাড়া হওয়া , ( ii ) রক্তে গ্লুকোজের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা , ( iii ) BMR নিয়ন্ত্রণ , ( iv ) জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য হরমোন মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে । এ ছাড়া হরমোন কোশে কোশে রাসায়নিক সংযোগ সাধন করে বলে , হরমোনকে রাসায়নিক সমন্বায়ক বা রাসায়নিক দূত বলা হয় । প্রাণী হরমোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য (Characteristics of animal hormone) প্রাণী হরমোনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল 1. উৎস ( Source ): প্রাণী হরম