Jobs Update and Preparation

বৈদিক যুগ, ঋক বৈদিক যুগ, পরবর্তী বৈদিক যুগ ( Vedic age, Rik Vedic age After Vedic age )

Vedic age,Rik Vedic age After Vedic age


    বৈদিক যুগ (Vedic Age)
    বেদকে ভিত্তি করে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে ছিল বলে এই সভ্যতাকে বৈদিক সভ্যতা বলা হয়। এই সভ্যতার স্রষ্টাদের 'আর্য' বলা হয়। খাঁটি শব্দে আর্য কথার অর্থ হল "সৎবংশজাত" বা "অভিজাত মানুষ", আর্য কোনো জাতি নয় আর্য   ভাষাগত ধারণা। 
    * আর্যদের বসবাস ছিল 'সপ্তসিন্ধু অঞ্চল'সপ্তসিন্ধু বলতে কি বোঝায়⟶ প্রধানত পাঞ্জাবের পাঁচটি নদী কে বোঝায় → শতদ্রু , বিপাশা , ইরাবতী , চন্দ্রভাগ ও বিতস্তা এবং সিন্ধু ও সরস্বতী। 
    * বৈদিক যুগে 'Sage' ( সেজ ) মানে মহাজ্ঞানী ব্যাক্তি কে বোঝায়। 
    ** 'ঋকবেদ' হল আর্যদের প্রাচীনতম সাহিত্য।
    * 'ঋষি অগস্ত্য' → দক্ষিণ ভারতে আর্য সংস্কৃতি বিস্তারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। 

    বেদ চার প্রকারের ছিল এবং প্রতিটি বেদকে আবার চার ভাগে ভাগ করা হয় : 

    ১. ঋক : প্রাকৃতিক বর্ণনা এবং প্রাকৃতিক দেবদেবীর স্তুতি গান রয়েছে 
    ২. সাম : সমস্থ প্রার্থনা বা মন্ত্র  ( Hyam ) আছে যা ঋক বেদের যজ্ঞের সময় ব্যবহার হত
    ৩. যজু : যাগ যজ্ঞের মন্ত্রাদি, যেগুলো এই যুগে চর্চা করা হত
    ৪. অথর্ব : সৃষ্টির রহস্য , চিকিৎসাবিদ্যা ও নানান বশীকরেনের মন্ত্রাদি এই বেদে ছিল। 

    প্রতিটি বেদকে আবার চার ভাগে ভাগ করা হয় :
    ১. সংহিতা : দেবদেবীর গান এবং যজ্ঞের মন্ত্র দিয়ে গঠিত 
    ২. ব্রাম্ভনযাগ যজ্ঞের বিধান
    ৩. আরণ্যক : সংসার ধৰ্ম শেষে যারা অরণ্যে আশ্রয় নিত তাদের ধৰ্ম মত্
    ৪. উপনিষদ : উপনিষদ বেদের শেষ ভাগ , তাই তা বেদান্ত ( বেদের অন্ত  ) নামে পরিচিত। আরণ্যক সারাংশের উপর ভিত্তি করে যে দার্শনিক চিন্তার উদ্ভব হয়েছিল তাই হল উপনিষদ। 


    ঋক বৈদিক যুগ ( Rik Vedic Age )
    সময় : ১৫০০ B.C থেকে ১০০০ B.C
    এই যুগে কিছু মানুষ কে নিয়ে গঠিত হত পরিবার → কিছু পরিবার নিয়ে গোষ্ঠী  → এবং কিছু গোষ্ঠী নিয়ে গঠিত হত উপজাতি। 
    রাজা পরামর্শ নিত সভা এবং সমিতি থেকে -
    সভা : বায়োজ্যোষ্ট দের নিয়ে বানানো হত সভা , এখানে মেয়েরা অংশ নিতে পারতো না। 
    সমিতি : সকল মানুষ নিয়ে বানানো হত এবং এখানে মেয়ারও অংশ নিতে পারতো। 
    বলিষ্ট এবং বিশ্বমিত্র ছিল এইযুগের প্রভাতশালি পুরোহিত। 
    ঋগ্বেদে কিছু বিদুষী নারীর উদাহরণ আছে , যেমন → ঘোষ , অপালা , বিশ্ববারা , লোপামুদ্রা এরা ছিল এইযুগের বিখ্যাত শিক্ষিত নারী 
    ঋগবৈদিক যুগের শেষ দিকে সমাজে 'চতুরাশ্রম' প্রথার উৎপত্তি। চতুরাশ্রম সমাজে পূর্ণ ভাবে বেঁচে থাকার চারটি উপায়। এই চারটি উপায় হলো :-
    ব্রাম্ভচর্য : গুরুগৃহে বাসকরে ব্রাম্ভচর্য পালন এবং বিদ্যাচর্চা 
    গাৰ্ইস্ত্য : যৌবনে সংসার ধৰ্ম পালন 
    বান্প্রস্ত : গৌড় বয়সে সংসার ত্যাগ করে অরণ্যে গিয়ে ঈশ্বর চর্চা 
    সন্যাস : সব শেষে সাংসারিক বন্ধন ছিন্ন করে সন্যাস গ্রহণ 

    বৈদিক যুগের দেবদেবী : 
    ইন্দ্র : ইনি ছিলেন সর্ব শ্রেষ্ট দেবতা , তার উদ্যেশে ঋগ্বেদে ২৫০ টি মন্ত্র আছে। একে বলা হয় পুরন্দর অর্থাৎ দুর্গ - ধংসকারী , এবং সৃষ্টির দেবতা 
    অগ্নি : ২০০ মন্ত্র আছে 
    বরুন : পাপ পূর্ণ এবং জলের দেবতা 
    সোম : বৃক্ষাদি 
    মরুৎ : বজ্র , প্রার্থনা , বৃষ্টি 
    সূর্য : আলোক 
    যম : মৃত ও বায়ু  বা বাতাস 
    দেবীর হলেন :
    অদিতি , উষা , সাবিত্রী , সরস্বতী 

    পরবর্তী বৈদিক যুগ ( After Vedic Age ) :
    সময় : ১০০০ B.C থেকে ৬০০ B.C
    এইসময় হস্তিনাপুর , কৌশাম্বি নগরের সূচনা হয় 
    এই সময় ইন্দ্র স্থানচূত হয় এবং প্রজাপতি ব্রম্ভা , বিষ্ণুশিবের আসন শ্রেষ্ট হয় 

    : কালপঞ্জী :
    ১৫০০ B.C → আর্যদের আগমন 
    ১৫০০ - ১০০০ B.C → ঋগ বৈদিক যুগ 
    ১৪০০ - ১০০০ B.C → ঋগবেদ রচনা 
    ১০০০ - ৬০০ B.C →পরবর্তী বৈদিক যুগ 
    ১০০০ → লোহার ব্যবহার 

     প্রশ্নমালা :
    ১. আর্যদের প্রাচীনতম গ্রন্থের নাম কি ?
    ২. বেদকে শ্রুতি বলা হয় কেন ?
    ৩. বেদ কাইপ্রকার এবং কি কি ?
    ৪. আর্যদের চতুরাশ্রম প্রথার প্রথম আশ্রমের নাম কি ?
    ৫. ঋকবৈদিক যুগে দু'জন বিদুষী রমণীর  নাম কারো ?
    ৬. ঋকবৈদিক যুগে দু'জন দেবতা / দেবীর নাম কারো ?
    ৭. গ্রামনি / বিষপতি কি ?
    ৮. সভা / সমিতি কি ?  

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    Thanks for your comment. We review and answer your comment.