Jobs Update and Preparation

Doctor Edward Jenner's Discovery: The Vaccine of Pox

ড. এডওয়ার্ড জেনারের আবিষ্কার
বসন্তের টিকা 

Doctor Edward Jenner's Discovery: The Vaccine of Pox

এই পোস্টিতে অনেক ইন্টারনেট এবং বই পড়ে সর্বশেষ্ট করে লেখক এই ছোট গল্পটি বানিয়েছেন। লেখক কোনো বই এর অনুকরণ করে এই গল্পটি বানাইনি।
লেখক : সুরজিৎ মিদ্দ্যা 
বিজ্ঞানী জেনার ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে ১৭ই মে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর বাবা ছিলেন বার্কলির যাজক। ছোট থেকেই পড়াশোনায় আগাত জ্ঞান এবং প্রথম জীবন থেকেই জীবনবিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন। তিনি ডাক্তার হবার পর ২১ বছর বয়সে লন্ডনের সেন্ট জর্জ ( St. George ) হাসপাতালে চিকিৎসক রূপে নিযুক্ত হন এবং তখনকার দিনে বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক (Surgeon) জন হান্টার (John Hunter) এর তত্বাবধানে কাজ শুরু করেন। ড. হান্টার তাঁকে গুটিবসন্তের প্রতিষেধক আবিষ্কারের কাজে উৎসাহিত করেন। 
ড. জেনার নানারকম রোগের ওষুধ দেন। ওষুধ দিয়ে রোগ সারিয়ে দেন। কিন্তূ বসন্ত রোগের কোনো ঔষুধ দিতে পারেননা। এ ভয়ঙ্কর রোগের ঔষুধ তাঁর জানা ছিল না। পুরো লন্ডন শহরে বসন্ত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বসন্ত রোগ ভারী ছোঁয়াচে। মহামারির মতো তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ মারাযাচ্ছিলো জেনারের চোখের সামনে। জেনার ছিল অসহায় তাঁর কিছুই করার ছিল না। 
এক গোয়ালিনি প্রতিদিনই দুধ দিতেন জেনারকে। জেনার হটাৎ একদিন লক্ষ করলেন, গোয়ালিনির হাতের একটা আঙুলে ফোসকা। জেনার মনে মনে ভাবলেন, সর্বনাশ এর তো বসন্ত হয়েছে !
জেনার খুব ভয় পেয়ে গেলো এবং জিজ্ঞেস করলো তোমার তো বসন্ত রোগ হয়েছে ? তোমার হাতের আঙুলে ফোসকা দেখছি। গোয়ালিনি বললো, গোরুর দুধ দোহাতে গেলে সবার আঙুলে এমন কম বেশি ফোসকা পড়ে। 
জেনার জিজ্ঞেস করলো, কিন্তূ ফোসকা টা পড়ে কেন ?
গোয়ালিনি বললো, গোরুর বাঁটে এক রকম ঘা হয় সেই ঘা থেকে পুঁজ পড়ে। সেই পুঁজ লেগে গোয়ালাদের হাতে এই ফোসকা পড়ে। 
জেনার ভয় থেকে মুক্তি পেলো। তোমার বসন্ত রোগ হয় নাই ?
না। আমার পাড়ায় কারও এই রোগ হয় না। 
জেনার বললেন, আশ্চর্য তো ! তোমার ওই গোরু আমাকে দেখাতে পারবে ?
পারব না কেন ? এখুনি চলুন না দেখিয়ে দিচ্ছি। জেনার গোয়ালীনির সঙ্গে গিয়ে গোরু দেখলেন। গোরুর বাঁট থেকে একটু পুঁজ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। 
এরপর জেনার তার সহকারীর* দেহে ওই পুঁজ ইনজেকশন করে ঢুকিয়ে দিলেন। জেনার দেখলো সেখানে একটা ফোসকা পড়ল এবং কয়েকদিন পরে শুকিয়ে গেলো ফোসকাটা।
এরপর জেনার সহকারীর দেহে বসন্তের জীবাণু ঢুকিয়ে দিলেন। কয়েকদিন কেটে গেল, জেনার দেখলো সহকারীর দেহে বসন্ত রোগের কোনো চিহ্নই দেখা গেলো না। 
জেনার বুজতে পারলেন, গোরুর বসন্তের জীবাণু সুস্থ মানুষের শরীরে ঢুকিয়ে দিলে তাকে আর বসন্ত রোগ আক্রান্ত করে না। প্রথম প্রথম লোকে জেনারকে ঠাট্টা এবং বিদ্রুপ করতে লাগল। জেনার ও সব গ্রাহ্য না করে বেশ কিছু মানুষের শরীরে ওই পুঁজ ঢুকিয়ে দিলেন। তাদের বসন্ত রোগ হল না। যাদের দিলেন না তাদের বসন্ত রোগ হল। 
এর পর দলে দলে লোক আসতে লাগল জেনারের কাছে টিকা নেবার জন্য। সম্রাট নেপোলিয়ান নিজে এসে তাঁর কাছ থেকে টিকা নিয়েছিলেন। 
জেনার এরপর সবাই কে শিখিয়ে দিলেন, কীভাবে গো বসন্তের বীজ সংগ্রহ করে টিকা দিতে হয়। 
জেনারের এই বিস্ময় কর আবিষ্কারের ফলে, ভয়ঙ্কর বসন্ত রোগ দূর করা সম্ভব হয়েছে। 
জেনারের  ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু হয়।
মতান্তরে, জিমি ফিপস (Jimmy Phipps) নামে আট বছরের একটি স্বাস্থবান বালকের দেহে প্রথমে গো বসন্তের জীবাণু  (ভাইরাস) করিয়ে ছিলেন। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for your comment. We review and answer your comment.