Jobs Update and Preparation

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান

পরিবেশের পরিবর্তন সনাক্তকরণ এবং উদ্ভিদের সাড়াপ্রদানের পদ্ধতি (Detection of Change in Environment and Mechanism of Response in Plants )

বেশিরভাগ উদ্ভিদ নির্দিষ্ট স্থানে মৃত্তিকার সঙ্গে আবদ্ধ অবস্থায় অবস্থান করে বলে প্রাণীদের ন্যায় সাড়া প্রদানের প্রকৃতি একটু আলাদা। অর্থাৎ নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির থেকে কেবল অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালন ঘটায়। উদ্ভিদের সঞ্চালন বলতে প্রধানত ধীর বৃদ্বিজ চলন এবং রসস্ফীতিজনিত চলনকে বােঝায়। এ ছাড়া লজ্জাবতী ও বনচাড়াল উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল চলন দেখা যায়। তবে কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদের মধ্যে গমন পরিলক্ষিত হয় যেমন — ক্ল্যামাইডােমােনাস, ভলভক্স, ডায়াটম ইত্যাদি

চলন ও গমনের সংজ্ঞা :

চলন ➤ যে প্রক্রিয়ায় জীব নির্দিষ্ট স্থানে স্থির থেকে অর্থাৎ স্থানান্তরে না গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গপ্রতঙ্গ সঞ্চালন করে তাকে চলন ( movement ) বলে। 

গমন ➤ যে প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছায় বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের দ্বারা উদ্ভিদ বা প্রাণী সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে তাকে গমন ( locomotion ) বলে।  

চলন ও গমনের মূল পার্থক্য হল — চলনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না। গমনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়। এছাড়াও এককোশী উদ্ভিদ কিংবা উদ্ভিদ কোশের প্রােটোপ্লাজমে বহিস্থ উদ্দীপক ছাড়া রােটেশন বা প্রবাহগতি ( যেমন - পাতাশ্যাওলার পাতার কোশ ) এবং সারকুলেশন বা আবর্তগতি ( যেমন — কুমড়াে গাছের কাণ্ডের রােম ) দেখা যায়। কিছু কিছু উদ্ভিদের ( ক্ল্যামাইডােমােনাস, ভলভক্স ইত্যাদি ) চলরেণু , গ্যামেট ( জনন কোশ ) সিলিয়া  সঞ্চালনের ( ciliary movement ) দ্বারা স্থান পরিবর্তন করে। 

লজ্জাবতী লতার ( Mimosa pudica ) পাতা স্পর্শ করা মাত্র পাতামধ্যস্থ রসস্ফীতি চাপ কমে যাওয়ায় পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে ( সিসমেন্যাস্টি চলন ), আবার বন্চাঁড়াল উদ্ভিদের ( Desmodium gyrans ) পরিণত কোশের রসস্ফীতির হ্রাস ও বৃদ্ধির ফলে বন্চাঁড়াল উদ্ভিদের তিনটি অনুফলকের দুই পাশের অনুফলক দুটি পর্যায়ক্রমে ওঠানামা করতে থাকে। একে প্রকরণ চলন করে ( Movement of variation ) বলে।

আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুর উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা সংক্রান্ত আবিষ্কার :

বিশিষ্ট বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু মহাশয় উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা সংক্রান্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রমাণ করে দেখান — উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে এবং উদ্দীপনা প্রয়ােগে তারাও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। যেমন — প্রাণীরা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

উদ্দীপক প্রয়ােগে ( আঘাত , স্পর্শ , দমকা হাওয়া ইত্যাদি ) লজ্জাবতী ( Mimosa pudico ) উদ্ভিদের পাতার পত্ৰকগুলি মুদে যায়, কারণ পত্ৰকগুলি উদ্দীপ্ত হলে উদ্দীপনা পত্রবৃন্তের গােড়ার কোশে প্রেরিত হয় এবং পূত্রমূলের উপাধান (pulvinus) কোশ থেকে জল অন্য কোশে স্থানান্তরিত হওয়ায় কোশগুলির রসস্ফীতির পরিবর্তন ঘটে, ফলে পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে। উদ্দীপকের প্রভাব মুক্ত হলে আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। ফিরে আসার সময় উদ্দীপকের তীব্রতার উপর নির্ভর করে। অনুরূপ কোশের রসস্ফীতির তারতম্যের দরুন বন্চাঁড়ালএর ( Desmodium sp ) পাতার ত্রিফলকের পার্শ্ব পত্রক দুটি পর্যায়ক্রমে ওঠানামা করে। 

আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু মহাশয়ও Resonant Recorder, Electric Probe, Crescograph প্রভৃতি যন্ত্রের সাহায্যে উদ্দীপক প্রয়ােগে উদ্ভিদের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করে দেখান। তিনি লজ্জাবতী এবং বনচাড়াল উদ্ভিদের মধ্যে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা ( electrical stimulation ) পাঠিয়ে দেখান উদ্দীপনা উদ্ভিদ কাণ্ডের মধ্য দিয়ে পাতায় পৌছে পাতাকে নুইয়ে দিচ্ছে বা বা বন্চাঁড়ালের পাতার স্বতঃস্ফুর্ত চলন ঘটাচ্ছে। স্পন্দন মুক্ত অবস্থায় বন্চাঁড়ালের পত্রবৃন্ত কেটে দিলে স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু উপাধানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উদীপনা প্রয়োগ করলে আবার স্পন্দন ঘটে। 

উদ্ভিদের চলন ( Plant Movement ) :

উদ্ভিদদেহে উদ্দীপনায় সাড়া প্রদানের একটি ধরন হল চলন ( movement )। কতিপয় নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ( ক্ল্যামাইডােমােনাস, ভলভক্স, ডায়াটম প্রভৃতি ) ছাড়া বেশিরভাগ উদ্ভিদের কোনাে গমন অঙ্গা থাকে না। মাটির সঙ্গে সংলগ্ন থাকে বলে উদ্ভিদের গমন সম্ভব হয় না। কিন্তু জৈবিক প্রয়ােজনে উদ্দীপকের উপস্থিতি অথবা অনুপস্থিতিতে নির্দিষ্ট স্থানে সংলগ্ন থেকে অভ্যন্তরীণ ভাবে অঙ্গ সঞ্চালনে সক্ষম হয়। এই সঞ্চালনকে বক্রতাজনিত চলন বা বক্র সঞ্চালন ( movement of curvature ) বলে। 

উদ্ভিদ চলনের প্রকারভেদ ( Types of Plant movement ):

 উদ্ভিদ চলনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা হয়। 

1 . ট্যাকটিক বা আবিষ্ট চলন 

2. ট্রপিক বা দিগনির্ণীত চলন 

3. ন্যাস্টিক বা ব্যাপ্তি চলন 

1. ট্যাকটিক চলন বা আবিষ্ট চলন ( Tactic movement ) : আলাে, তাপমাত্রা, রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যুৎ শক্তি প্রভৃতি বহিথ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ কিংবা উদ্ভিদ অঙ্গের স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বা আবিষ্ট চলন বলে।

ফোটোট্যাকটিক ( Phototactic ) : সমগ্র উদ্ভিদদেহ যখন আলােক উদ্দীপকের প্রভাবে স্থান পরিবর্তন করে, তাকে ফটোট্যাকটিক বা আলােক অভিমুখী চলন বলে। যেমন — কতিপয় শৈবাল [ ক্ল্যামাইডােমােনাস ( Chlamydomonas ), ভলভক্স ( Volvox ) ] 

কেমোটোট্যাকটিক চলন : মসের শুক্রাণু সুক্রোজের প্রভাবে এবং ফার্নের শুক্রাণু ম্যালিক অ্যাসিডের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হয়, একে কেমোটোট্যাকটিক চলন বলে। 

 ক্ল্যামাইডােমােনাস ও ভলভক্সের চলন প্রধানত আলােক অভিমুখে ঘটে, কিন্তু তীব্র আলােতে এরা আলাের বিপরীত দিকে গমন করে, তখন তাকে প্রতীপ আলােকবর্তী চলন বলে।

2. ট্রপিক বা দিগনির্ণীত চলন ( Tropic movement ) : উদ্দীপকের উৎসের দিকে বা উদ্দীপকের গতিপথের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে ট্রপিক চলন বা দিগনির্ণীত চলন বলে। 

পাতাশ্যাওলা গাছের পাতার কোশে এবং কুমড়াের কাণ্ডের রােমের কোশে স্বতঃস্ফুর্ত প্রােটোপ্লাজমী চলন দেখা যায়। 

প্রকারভেদ ( Types ) : উদ্ভিদের ট্রপিক চলন প্রধানত তিন প্রকারের, 

( i ) ফোটোট্রপিক চলন 

( ii ) হাইড্রোট্রপিক চলন 

( iii ) জিওট্রপিক চলন 

( i ) ফোটোট্রপিক চলন বা আলােকবৃত্তি ( Phototropic movement or Phototropism ) : উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন আলােক উৎসের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে আলােকবৃত্তি বা আলােকবর্তী চলন বা ফোটোট্রপিক চলন বলে। 

উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখাপ্রশাখা আলোকরশ্মির সঙ্গে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পায়, তাই কাণ্ড ও শাখাকে অনুকুল আলােকবর্তী ( positively phototropic ) বলে। মূল আলােক উৎসের বিপরীত দিকে অগ্রসর হয়, তাই মূলকে প্রতিকূল আলােকবর্তী ( negatively phototropic ) বলে। অপরপক্ষে, উদ্ভিদের পাতা আলােক রশ্মির সঙ্গে তীর্ষকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পাতাকে তির্যক আলােকবর্তী ( transversely phototropic ) বলে। 

টবসহ একটি গাছকে অন্ধকার ঘরে জানলার সামনে রেখে জানলার একটি পাল্লা খুলে রাখলে কয়েকদিন পর গাছের বিটপ অংশকে জানলার দিকে বেকে বৃদ্ধি পেতে দেখা যাবে। এর থেকে প্রমাণিত হয় উদ্ভিদের বিটপ অংশের চলন অনুকূল আলােকবর্তী। 

 ( ii ) হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তি  ( Hydrotropic Movement or Hydrotropism ) : উজিদ অঙ্গের চলন যখন জলের উৎসের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে জলবৃত্তি বা জলবর্তী বা হাইড্রোট্রপিক চলন বলে। 

উদ্ভিদের মূল সর্বদা জলের উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায়, তাই মূলকে অনুকূল জলবর্তী ( positively hydrotropic ) বলে।  অপরপক্ষে, কাণ্ড সর্বদা জলের উৎসের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়, তাই কাণ্ডকে প্রতিকূল জলবর্তী ( negatively hydrotropic ) বলে। 

একটি চালুনিতে কিছু ভিজে কাঠের গুঁড়াে রেখে তার মধ্যে কয়েকটি ছােলা বা মটর বীজ রাখা হল এবং চালুনিটিকে ঝুলিয়ে রাখা হল। কয়েকদিন পর দেখা গেল বীজগুলি অঙ্কুরিত হয়ে ভ্রূণমূলগুলি চালুনির ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে এসে ঝুলে আছে। আরও কয়েকদিন পর দেখা গেল ভ্ৰণমূলগুলি পুনরায় বেঁকে চালুনির ছিদ্রে প্রবেশ করেছে। এর কারণ হল প্রথমে ভ্ৰণমূলগুলি অভিকর্ষের টানে নীচের দিকে বৃদ্ধি পাচ্ছিল, কিন্তু পরে জল পাওয়ার জন্য পুনরায় চালুনির ছিদ্র দিয়ে কাঠের গুড়াের মধ্যে প্রবেশ করেছে। এর থেকে প্রমাণিত হয় মূলের চলন জল অনুকূলবর্তী। 

( iii ) ভিওট্রলিক চলন বা অভিকর্ষবৃত্তি ( Geotropic movement or Geotropism ) : উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে অভিকর্ষবৃত্তি বা অভিকর্ষবর্তী বা ভিওট্রলিক চলন বলে।  

উদ্ভিদের মূল সবসময় অভিকর্ষের টানে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়, এই কারণে মূলকে অনুকুল

জিওট্রপিক চলনের পরীক্ষা
জিওট্রপিক চলনের পরীক্ষা

অভিকর্যবর্তী
( positively geotropic ) বলে। কাণ্ড মাটির ওপরে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়, তাই কাণ্ডকে প্রতিকূল অভিকর্যবর্তী ( negatively geotropic ) বলে।  পার্শ্বীয় মূল পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের সঙ্গে লম্বভাবে বৃদ্ধি পায়, তাই উদ্ভিদের পার্শ্বীয় মূলকে তির্যত অভিকর্যবর্তী ( transversaly geotropic ) বলে। 

একটি পেট্রিডিশে ভিজে তুলোর প্যাড রেখে তার ওপর কয়েকটি সদ্য অঙ্কুরিত বীজ পিনের সাহায্যে আটকে দেওয়া হলো।এখন পেট্রিডিসটিকে আংটার সাহায্যে টবিলের ওপর খাড়াভাবে রাখা হল। কয়েকদিন পর দেখা যাবে বীজের অবস্থান যেমনই হােক না কেন প্রত্যেকের ভ্রূণমূল পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের দিকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, মূলের চলন অনুকুল অভিকর্ষবর্তী। 


3. ন্যাস্টিক চলন বা ব্যাপ্তি চলন ( Nastic Movement ) : উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন উদ্দপকের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত না হয়ে উদ্দীপকের তীব্রতার উপর নির্ভর করে নিয়ন্ত্রিত হয় , তখন সেই প্রকার চলনকে ন্যাস্টিক চলন বা ব্যাক্তি চলন বলে।  

উদ্দীপকের প্রকৃতি অনুসারে ন্যান্টিক চলন চার প্রকার :

(i) ফোটোন্যাস্টিক বা আলােকব্যাপ্তি

(ii) থার্মেন্যাস্টিক বা তাপব্যাপ্তি

(iii) সিসমোন্যাস্ট্রিক বা স্পর্শব্যাপ্তি

(iv) কেমােন্যাস্টিক বা রসায়ন ব্যাপ্তি

(i) ফোটোন্যাস্টিক ( Photonastic ) বা আলােকব্যাপ্তি : উদ্ভিদ অঙ্গের সঞ্চালন যখন আলােকের তীব্রতার দ্বারা

সূর্যমুখী ফোটোন্যাস্টিক
সূর্যমুখী ফোটোন্যাস্টিক

 নিয়ন্ত্রিত হয় , তখন তাকে ফোটোন্যাস্টিক বা আলােকব্যাপ্তি   চলন বলে। যেমন- ( পদ্ম, সূর্যমুখী প্রভৃতি ফুল আলাের   তীব্রতায় ফোটে আবার কম আলােতে মুদে যায়।   সন্ধ্যামালতি, জুঁই কম আলােকে ফোটে আবার বেশি আলােকে   অর্থাৎ দিনের বেলায় মূদে যায়।  

( ii ) থার্মেন্যাস্টিক বা তাপব্যাপ্তি ( Thermonastic ) :   উদ্ভিদ অঙ্গের সঞ্চালন বা চলন যখন উষ্ণতার তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন এই ধরনের চলনকে থার্মেন্যাস্টিক

টিউলিপ থার্মেন্যাস্টিক
টিউলিপ থার্মেন্যাস্টিক

বা তাপব্যাপ্তি চলন বলে। ( যেমন — টিউলিপ  ফুলের পাপড়ি অধিক তাপে খােলে, আবার কম তাপে মুদে যায় ) 

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন আলো ও তাপ উভয়ের প্রভাবে ঘটে তখন তাকে নিকটিন্যাস্টি চলন বলে। যেন - তেতুল গাছের পাতা দিনের বেলায় আলাে ও তাপের প্রভাবে খুলে যায়, আবার রাত্রি বেলায় অন্ধকার ও কম তাপে মুদে যায়। 

( iii ) সিসমোন্যাস্ট্রিক বা স্পর্শব্যাপ্তি ( Seismonastic ) : স্পর্শ, ঘর্ষণ, আঘাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উদ্দীপকের

লজ্জাবতীর সিসমোন্যাস্ট্রিক
লজ্জাবতীর সিসমোন্যাস্ট্রিক

তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন হয়, তাকে সিসমোন্যাস্ট্রিক বা স্পর্শব্যাপ্তিচলল বলে। যেমন- লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শ করা মাত্র পাতার পত্ৰকগুলি নুয়ে পড়ে, কারণ পত্ৰকগুলি উত্তেজিত হলে তাদের স্পিতবৃন্ত বা পালভিনাস থেকে জল অন্য কোশে চলে গেলে রসস্ফীত চাপ কমে যায়, ফলে পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে। 

( iv ) কেমােন্যাস্টিক বা রসায়ন ব্যাপ্তি ( Chemonastic ) : কোনাে রাসায়নিক পদার্থের ( প্রােটিন, ইথার, ক্লোরােফর্ম প্রভৃতি ) সংস্পর্শে উদ্ভিদ অঙ্গের যে সঞ্চালন বা চলন ঘটে, তাকে কেমােন্যাস্টিক বা রসায়ন ব্যাপ্তি চলন বলে। ( যেমন — সূর্যশিশির্ক ( পতঙ্গভুক ) উদ্ভিদের পাতার কর্ষিকাগুলি পতঙ্গের ( প্রােটিন ) সংস্পর্শে আসামাত্র বেঁকে গিয়ে পতঙ্গকে আবদ্ধ করে।  

ট্যাকটিক, ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য ( Differences  among Tactic, Tropic and Nastic Movement )

 ট্যাকটিক

 ট্রপিক

 ন্যাস্টিক

 ট্যাকটিকচলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়। 

 ট্রপিক চলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না। 

 ন্যাস্টিক চলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না। 

 এই প্রকার চলন উদ্দীপকের তীব্রতা ও গতিপথ উভয়ের প্রভাবে ঘটে। 

 এই প্রকার চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়।  

 এই প্রকার চলন উদ্দীপকের তীব্রতার উপর নির্ভর করে কিন্ত, উদ্দীপকের গতিপথের উপর নির্ভর করে না। 

 ট্যাকটিক চলন হরমােন ( অঙ্গিন ) দ্বারা প্রভাবিত হয় না। 

 ট্রপিক চলন হরমােন ( অক্সিন ) দ্বারা প্রভাবিত হয়। 

 ন্যাস্টিক চলন হরমােন ( অক্সিন ) দ্বারা প্রভাবিত হয় না। 

 এটি এক প্রকার সামগ্রিক চলন। 

 এটি একপ্রকার বক্র চলন। 

 এটি একপ্রকার বক্র চলন। 

 উদাহরণঃ শৈবালের আলােকের দিকে চলন। 

 উদাহরণঃ উদ্ভিদ অঙ্গের আলাের  উৎসের দিকে চলন। 

 উদাহরণঃ স্পর্শ করলে লজ্জাবতীর পাতা মুদে যায়। 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for your comment. We review and answer your comment.