কোষ ( Cell )

কোষ ( Cell )

কোষ হল জীবদেহের গঠনমূলক এবং জৈবনিক ক্রিয়ামূলক একক
সমস্ত জীবদেহই এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত । জীবদেহের সমস্ত জৈবিক ক্রিয়াগুলি কোষের মধ্যেই সম্পন্ন হয় । প্রত্যেক জীবের জীবনযাত্রা শুরু হয় একটি মাত্র কোষ থেকে ৷ 1665 সালে বৃটিশ প্রযুক্তিবিদ রবার্ট হুক ( Robert Hooke , 1635-1703 ) নিজের তৈরী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ওক গাছের কর্কের পাতলা ছেদ থেকে প্রথম কোষ আবিষ্কার করেন । কিন্তু সেটি ছিল মৃত কোষ। পরবর্তী কালে 1774 খ্রিস্টাব্দে ডাচ বিজ্ঞানী লিভেন হুক প্রথম সজীব কোষ আবিষ্কার করেন। 1833 খ্রীষ্টাব্দে জার্মান উদ্ভিদবিদ্ স্লেইডেন ( Schleiden ) এবং 1839 খ্রীষ্টাব্দে প্রাণিবিদ্ সোয়ান ( Schwann ) বলেন– " প্রতিটি জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত । কোষ হল জীবদেহের গঠনমূলক ও ক্রিয়ামূলক একক । " সবচেয়ে ক্ষুদ্র কোষ হল মাইকোপ্লাজমা গলিসেপটিকাম ( Mycopasma-golisepticum ) ব্যাকটিরিয়ামের কোষ ( 0.1 μm ব্যাসবিশিষ্ট ) এবং সবচেয়ে বড় কোষ হল উটপাখির ডিম ( 170mm - 125mm ব্যাসবিশিষ্ট ) । মানবদেহের সবচেয়ে ছোট কোষ হল শ্বেতকণিকা ( 3-4 μm ) এবং দীর্ঘতম কোষ হল স্নায়ুকোষ ( 1 মিটার ) । একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের দেহে ( 70-80 kg ওজনবিশিষ্ট ) কোষের সংখ্যা আনুমানিক ছয় থেকে দশ লক্ষ কোটি ( 60 х 1015 )।

কোশের সংজ্ঞা ( Definition ): প্রভেদক ভেদ্য আবরণী বেষ্টিত প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত স্ব-প্রজননশীল জীবদেহের গঠনমূলক ও জৈবিক ক্রিয়ামূলক একককে কোশ বলে।

কোষের প্রকারভেদ ( Types of cell ) :

নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিজ্ঞানী ডগহার্টি ( Dougherty ) কোষকে দু'ভাগে ভাগ করেন , যেমন :
( A )প্রোক্যারিওটিক কোষ ( Prokaryotic cell ) বা আদি কোষ এবং
( B ) ইউক্যারিওটিক কোষ ( Eukaryotic cell ) বা আদর্শ কোষ
A. প্রোক্যারিওটিক কোষ বা আদি কোষ : আদি কোষ বা প্রাক্যারিওটিক কোষের নিউক্লিয়াসটি অনুন্নত ; এটি নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস বিহীন । এরকম নিউক্লিয়াসে কেবলমাত্র DNA তত্ত্ব থাকে । প্রোক্যারিওটিক কোষের সাইটোপ্লাজমে কোন পর্দাঘেরা কোষ - অঙ্গাণু থাকে না । এই রকম কোষ খুবই সরল প্রকৃতির । ব্যাকটিরিয়া , নীলাভ - সবুজ শৈবাল ইত্যাদির কোষ এই রকমের কোষ ।
B.ইউক্যারিওটিক কোষ বা আদর্শ কোষ : সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষকে আদর্শ কোষ বা ইউক্যারিওটিক কোষ বলে । উন্নত শ্রেণীর সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ এইরকম কোষ দিয়ে গঠিত ।

প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক কোষ


আদর্শ কোষের গঠন ( Structure of Eukaryotic cell ) :

ইউক্যারিওটিক কোষের প্রধান দুটি অংশ হল : ( 1 ) প্লাজমা পর্দা বা কোষ পর্দা এবং ( 2 ) প্রোটোপ্লাজম

কোষ প্রাচীর ( Cell Wall )

সংজ্ঞা ( Definition ): উদ্ভিদকোশের কোশপর্দার বাইরে সেলুলোজ নির্মিত জড় পদার্থের যে একটি পুরু , দৃঢ় , ভেদ্য ও স্থিতিস্থাপক আবরণ ( coat ) থাকে , তাকে কোশপ্রাচীর বা কোশপ্রাকার বলে ।

কোশপ্রাচীরের গঠন ( Structure of cell wall ) : পরিণত উদ্ভিদকোশের কোশপ্রাচীর তিনটি স্তর দিয়ে গঠিত , যথা- 1. মধ্যপর্দা 2. মুখ্য বা প্রাথমিক প্রাচীর এবং 3. গৌণ প্রাচীর ।

1. মধ্যপর্দা বা মধ্য ল্যামেলা ( Middle lamella ) : উদ্ভিদকলার সন্নিহিত দুটি কোশের মাঝে যে আন্তঃকোশীয় ধাত্র থাকে , তাকে মধ্যপদা বলে ।
মধ্যপর্দা প্রধানত ক্যালশিয়াম , ম্যাগনেশিয়াম ও পেকটেট এবং কয়েক রকমের প্রোটিন দিয়ে গঠিত ।

2. প্রাথমিক প্রাচীর বা মুখ্য প্রাচীর ( Primary wall ) : মধ্যপর্দার দু - পাশে প্রথম যে প্রাচীর গঠিত হয় , তাকে প্রাথমিক প্রাচীর বলে ।
এটি কোশের একেবারে বাইরের স্তর । প্রাচীরটি তুলনামূলকভাবে পাতলা ও ভেদ্য । এটি প্রধানত সেলুলোজ দিয়ে গঠিত ।

3. গৌণ প্রাচীর ( Secondary wall ) : প্রাথমিক কোশপ্রাচীরের ভিতরের দিকে এবং প্লাজমা পর্দার বাইরে যে প্রাচীর গঠিত হয় তাকে গৌণ প্রাচীর বলে ।
এই প্রাচীরটি পুরু , শক্ত , ভেদ্য । এই প্রাচীর সেলুলোজ , হেমিসেলুলোজ , লিগনিন ইত্যাদি উপাদানের সহযোগে গঠিত হয় ।

কোষ প্রাচীর ( Cell Wall )
কোষ প্রাচীরের গঠন 

কোশপ্রাচীরের কাজ ( Function of cell wall ) : কোশপ্রাচীর নিম্নলিখিত কাজগুলি সম্পন্ন করে
( i ) কোশের প্রোটোপ্লাজম এবং প্লাজমাপর্দাকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে ।
( ii ) কোশপ্রাচীর কোশকে যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে ।
( iii ) ভেদ্য কোশপ্রাচীর পাশাপাশি দুটি কোশের মধ্যে জল ও খনিজ পদার্থ আদানপ্রদানে সাহায্য করে ।

কোশপর্দা ( Cell membrane )

সংজ্ঞা ( Definition ) : প্রতিটি সজীব কোশের প্রোটোপ্লাজমের বাইরের দিক থেকে যে অতি সূক্ষ্ম স্থিতিস্থাপক , প্রভেদক ভেদ্য , লাইপোপ্রোটিন নির্মিত ত্রিস্তরীয় সজীব আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে , তাকে কোশপর্দা বলে ।

কোশপর্দার গঠন ( Structure of cell membrane ) : কোশপর্দা তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত । বাইরের ও ভিতরের স্তর দুটি প্রোটিন অণুস্তর এবং মাঝের স্তরটি লিপিড অণুস্তর দিয়ে গঠিত । লিপিড স্তরটি দ্বিস্তরীয় ফসফোলিপিড অণু দিয়ে গঠিত । কোশপর্দায় 40 ভাগ লিপিড এবং 50 ভাগ প্রোটিন এবং 10 ভাগ কার্বোহাইড্রেট থাকে । রবার্টসন ( 1959 ) প্রোটিন - লিপিড - প্রোটিন ( P - L - P ) ত্রিস্তরীয় আবরণীকে এককপর্দা রূপে অভিহিত করেন বিজ্ঞানী সিঙ্গারনিকলসন ( Singer and Nicolson , 1972 ) কোশপর্দা গঠনের তরল মোজাইক মডেল উপস্থাপন করেন । এই মডেল অনুযায়ী কোশপর্দা ফসফোলিপিড অণুর একটি দ্বিস্তরী অর্ধতরল সংগঠন , যার মধ্যে প্রোটিন অণুগুলি মোজাইকের মতো বিন্যস্ত থাকে । ফসফোলিপিডের মেরুজ প্রাস্তদ্বয় বাইরের দিকে এবং অমেরুজ প্রান্তদ্বয় ভিতরের দিকে থাকে । পর্দাস্থিত প্রোটিন দু - প্রকারের , যথা- ( i ) বহিস্থ বা পরিধিস্থ প্রোটিন — এই ধরনের প্রোটিনগুলি কোশপর্দার বাইরে ও ভিতরের তলে অবস্থান করে । ( ii ) অন্তর্নিহিত বা অন্তঃস্থ প্রোটিন — এই ধরনের প্রোটিনগুলি লিপিড স্তরের মধ্যে প্রোথিত থাকে ।

কোষ পর্দার তরল মোজাইক চিত্র
কোষ পর্দার তরল মোজাইক চিত্র 

কোশপর্দার কাজ ( Function of cell membrane ) : কোশপর্দা নিম্নলিখিত কাজগুলি সম্পন্ন করে–
( i ) কোশমধ্যস্থ সজীব অংশকে রক্ষা করে ।
( ii ) কোশপর্দা বা প্লাজমাপর্দার একটি প্রধান কাজ হল সজীব কোশের বহিঃ ও অস্তঃমাধ্যমের একটি অভিস্রবণীয় প্রতিবন্ধকরূপে কাজ করা ।
( iii ) কয়েক প্রকার কোশ - অঙ্গাণু ( যেমন — মাইটোকন্ড্রিয়া , গলগি বস্তু , এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম ) এবং নিউক্লিয় পর্দা সৃষ্টি করে ।
( iv ) কোশাস্তর ব্যাপন ও অভিস্রবণে সাহায্য করে ।

কোশপর্দা ও কোশপ্রাচীরের পার্থক্য :

কোশপর্দা কোশপ্রাচীর
1. সব কোশেই থাকে । এটি সজীব ও অর্ধভেদ্য । 1. কেবল উদ্ভিদ কোশ ও ব্যাকটেরিয়া কোশে থাকে । এটি জড় ও ভেদ্য ।
2. এটি প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে গঠিত । 2. এটি প্রধানত সেলুলোজ দিয়ে গঠিত ।
3. কোশপর্দা থেকে কোশ অঙ্গাণু সৃষ্টি হয় । 3. কোশপ্রাচীর থেকে কোশ অঙ্গাণু সৃষ্টি হয় না ।
4. ব্যাপন ও অভিস্রবণে অংশ নেয় । 4. কোশকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং ব্যাপনে অংশ নেয় ।

2. প্রোটোপ্লাজম ( Protoplasm ) :

প্রোটোপ্লাজম কোষের অর্ধতরল , জেলির মত আঠাল ও দানাদার সজীব অংশ । এটি প্রধানত A. নিউক্লিয়াসB. সাইটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত ।

[ A ] নিউক্লিয়াস ( Nucleus ) :

নিউক্লিয়াস প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন প্রায় গোলাকার এবং পর্দাঘেরা অংশ । নিউক্লিয়াসের মধ্যে সকল প্রকার বংশগত তথ্যাবলী উপস্থিত থাকে। নিউক্লিয়াস কোষের বিভিন্ন জৈবিক ক্রিয়াগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করায় একে কোষের মস্তিস্ক বলা হয়। রবার্ট ব্রাউন ( 1861 ) প্রথম নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। এটি চারটি অংশ নিয়ে গঠিত , যথা :
( i ) নিউক্লিয় পর্দা ( Nuclear membrane ) : এটি নিউক্লিয়াসকে ঘিরে অবস্থিত এবং দ্বি - একক পর্দা দ্বারা গঠিত । এই পর্দায় অসংখ্য ছিদ্র থাকে , এগুলিকে নিউক্লিয় - ছিদ্র ( Nuclear pores ) বলে । পর্দা দুটির মধ্যবর্তী স্থানকে পেরি-নিউক্লিয়ার সিস্টারনি বলে। নিউক্লিও পর্দা নিউক্লিয়াসের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে এবং নিউক্লিয়াস মধ্যস্ত অংশকে রক্ষা করে।
( ii ) নিউক্লিওলাস ( Nucleolus ) : নিউক্লিয়াসের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ঘন এক বা একাধিক যে ঘন গোলাকার অংশ থাকে , তাকে নিউক্লিওলাস বলে । নিউক্লিওলাসে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানাদার , সূত্রাকার এবং অনিয়তাকার অংশ থাকে । নিউক্লিওলাস RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত এবং এগুলি সংশ্লেষ করা নিউক্লিওলাসের প্রধান কাজ ।
( iii ) নিউক্লিওপ্লাজম ( Nucleoplasm ) : এটি নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস অন্তর্বর্তী স্থানে অবস্থান করে। এটি নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ স্বচ্ছ , অর্ধতরল ধাত্রবিশেষ , যার মধ্যে ক্রোমাটিন সূত্রগুলি অবস্থান করে । নিউক্লিওপ্লাজমে DNA , RNA , ফসপো-প্রোটিন , হিস্টোন , নানা প্রকার উৎসেচক , নানা প্রকার খনিজ লবন ( Na, Ca, P, Mg, K ) ইত্যাদি থাকে।
( iv ) নিউক্লিয় জালিকা বা ক্রোমাটিন জালিকা ( Chromatin reticulum ) : নিউক্লিওপ্লাজমের মধ্যে যে দীর্ঘ পেঁচালো সূত্রাকার অংশ থাকে , তাকে নিউক্লিয় জালিকা বলে । এই সূত্রগুলি ক্ষার জাতীয় রঞ্জকে রঞ্জিত হয় এবং এই কারণে এদের ক্রোমাটিন জালিকা বলে । কোষ বিভাজনের সময় এই সুত্রগুলি নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিতের আকার ধারণ করে , এদের তখন ক্রোমোজোম ( Chromosome ) বলে । ক্রোমাটিন জালিকা নিউক্লিক অ্যাসিড ( DNA ও RNA ) এবং প্রোটিন দিয়ে গঠিত । নিউক্লিক অ্যাসিড , বিশেষত DNA , জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী ধারণ ও বহন করে । ক্রোমাটিন জালিকার বেশী DNA- যুক্ত অঞ্চলকে ইউক্রোমাটিন ( Euchromatin ) এবং কম DNA- যুক্ত অঞ্চলকে হেটেরোক্রোমাটিন ( Heterochromatin ) বলে ।

নিউক্লিয়াস ( Nucleus )
নিউক্লিয়াস

নিউক্লিয়াসের কাজ ( Functions of Nucleus ): নিউক্লিয়াস আদর্শ কোষের বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া গুলি নিয়ন্ত্রণ করে। যেমনঃ
( i ). নিউক্লিয়াস জেনেটিক পদার্থ কোষ থেকে কোষে এবং জীব থেকে জীবে বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বহন করে।
( ii ). নিউক্লিয়াস RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।
( iii ). নিউক্লিয়াস কোষ বিভাজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

[ B ] . সাইটোপ্লাজম ( Cytoplasm ) :

সাইটোপ্লাজম হল প্রোটোপ্লাজমের নিউক্লিয়াসবিহীন জেলির মত আঠাল অংশবিশেষ । এটি সাইটোপ্লাজমীয় ধাত্র ( Cytoplasmic matrix ) এবং সাইটোপ্লাজমীয় বস্তু ( Cytoplasmic structure ) নিয়ে গঠিত । কোষে সাইটোপ্লাজম বিভিন্ন রুপে অবস্থান করে যেমনঃ গ্রানিউলার বা দানাদার , ফাইব্রিলার বা সূত্রাকার , রেটিকিউলার বা জালকাকার এবং আ্যালভিওলার । সাইটোপ্লাজমে বিভিন্ন ম্যাক্রো মাইক্রো উপাদান থাকে। ম্যাক্রো উপাদান গুলি হলো - কার্বন , হাইড্রোজেন , অক্সিজেন , নাইট্রোজেন , ক্যালসিয়াম , ফসফরাস , ম্যাগনেসিয়াম , সালফার , পটাসিয়াম , সোডিয়াম , ক্লোরিন ইত্যাদি। সাইটোপ্লাজমে মাইক্রো বা ট্রেস এলিমেন্টস গুলি হলো - কপার , কোবাল্ট , ম্যাঙ্গানিজ , জিঙ্ক , মলিবডিনাম , বোরন , সিলিকন ইত্যাদি। সাইটোপ্লাজমীয় ধাত্রে দুরকমের সাইটোপ্লাজমীয় বস্তু দেখা যায় , যেমন : ( i ) সজীব কোষ - অঙ্গাণু ( Cell organelles ) এবং ( ii ) নিৰ্জীব অজীৰীয় বস্তু অর্থাৎ আরগাস্টিক পদার্থ ( Ergastic substances ) । মাইটোকন্ড্রিয়া , গল্পি বডিস , প্লাসটিড , সেন্ট্রোজোম , এন্ড্রোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম , রাইবোজোম , লাইসোজোম ইত্যাদি হল কোষের সজীব বস্তু অর্থাৎ কোষ - অঙ্গাণু । বিভিন্ন রকমের সঞ্চিত বস্তু , বর্জ্য পদার্থ , ক্ষরিত পদার্থ ইত্যাদি হল কোষের নির্জীব অজীবীয় বস্তু । কোষের সাইটোপ্লাজমে অসংখ্য ছোট - বড় তরল পদার্থ পূর্ণ ( কোষ রস ) গহ্বর থাকে , তাদের ভ্যাকুওল ( Vacuole ) বলে । প্রাণিকোষের ভ্যাকুওলগুলি খুব ছোট এবং সংখ্যায় বেশী থাকে । তবে অনেক সময় প্রাণিকোষে ভ্যাকুওল থাকে না । অপরিণত উদ্ভিদকোষে ভ্যাকুওল সংখ্যায় বেশ কয়েকটি থাকে । তবে পরিণত অবস্থায় উদ্ভিদকোষে দু - একটি বড় আকারের ভ্যাকুওল দেখা যায় ।

সাইটোপ্লাজম ( Cytoplasm )
সাইটোপ্লাজমের ভৌত রূপ

ইউক্যারিওটিক কোষের বিভিন্ন কোষ অঙ্গাণুগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় :

1 . মাইটোকন্ড্রিয়া ( Mitochondria ) :

সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তাকারে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দণ্ডের মত অঙ্গাণুগুলিকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে । বেন্ডা ( 1898 ) প্রথম মাইটোকন্ড্রিয়া আবিস্কার করেন। প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বি - একক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে । বহিঃপর্দাটি সাধারণত মসৃণ , কিন্তু অস্তঃপর্দাটি অসংখ্য ভাঁজবিশিষ্ট । আঙুলের মত এইরকম ভাঁজগুলিকে ক্রিস্টি ( Cristae , একবচনে — ক্রিস্টা ) বলে । মাইটোকন্ড্রিয়ার বহিঃপর্দার গায়ে বৃত্তহীন এবং অন্তঃপর্দার গায়ে বৃত্তযুক্ত দানা থাকে । অন্তঃপর্দার গায়ে টেনিস র‍্যাকেট সদৃশ যে দানা গুলি থাকে তাদের অক্সিজোম বা F0-F1দানা বলে। উভয় পর্দার মাঝের স্থানকে পেরি-মাইটোকন্ড্রিয়াল স্থান বলে। মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃপর্দা - বেষ্টিত গহ্বরে ধাত্র ( Matrix ) থাকে । এই ধাত্রে বিভিন্ন রকম উৎসেচক , প্রোটিন দানা , রাইবোজোম দানা , DNA , RNA ইত্যাদি থাকে। শ্বসনের ক্রেবস্ - চক্র নিয়ন্ত্রণ করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ ৷ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে কোষের শক্তি উৎপন্ন হওয়ায় মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তি ঘর ( Power house of cell ) বলে ।

মাইটোকন্ড্রিয়া ( Mitochondria )
মাইটোকন্ড্রিয়া

2. গল্পি বডিস বা গলগি কমপ্লেক্স ( Golgi bodies or Golgi complex ) :

সজীব ইউক্যারিওটিক কোষের নিউক্লিয়াসের কাছে একক - পর্দা ঘেরা যে সব গোলাকার বা সূত্রাকার কোষ - অঙ্গাণু পর পর সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে , তাদের গল্পি বডিস বলে । ক্যামিলো গলগি ( 1888 )প্রথম গলগি বডি পর্যবেক্ষন করেন । উদ্ভিদকোষের গল্পি বডিকে অনেকে ডিকটিওজোম ( Dictyosom ) নামে অভিহিত করেন । গল্পি বড়িতে তিন রকমের গঠন দেখা যায় , যেমন : চ্যাপ্টা থলির মত গঠন বা সিস্টারনি ( Cisternae ) , ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গহ্বরের পুঞ্জ অর্থাৎ ভেসিকল ( Vesicles ) , এবং বড় বড় গ্বহর ( Vacuoles ) । গল্পি বডি বিভিন্ন ধরনের পদার্থ ( উৎসেচক , হরমোন ইত্যাদি ) ক্ষরণ করে এবং খাদ্যবস্তুর সঞ্চয় ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে । গল্পি বডি শুক্রাণুর অ্যাক্রোজোম গঠন করে।

গল্পি বডিস বা গলগি কমপ্লেক্স ( Golgi bodies or Golgi complex )
গল্পি বডিস বা গলগি কমপ্লেক্স

3. প্লাসটিড ( Plastid ) :

সজীব উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে ইতঃস্তত ছড়িয়ে থাকা দ্বি - একক পর্দাবেষ্টিত বর্ণহীন বা বর্ণযুক্ত গোলাকার বা ডিম্বাকার যে সকল অঙ্গাণু উদ্ভিদের খাদ্য সংশ্লেষে , বর্ণ গঠনে এবং খাদ্য সঞ্চয়ে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে , তাদের প্লাসটিড বলে । হেকেল ( 1866 ) প্রথম প্লাসটিড নামকরণ করেন। রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্লাসটিডকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা হয় , যেমন : ( a ) ক্রোমোপ্লাসটিড ( Chromoplastid ) বা বর্ণযুক্ত প্লাসটিড এবং ( b ) লিউকোপ্লাসটিড ( Leucoplastid ) বা বর্ণহীন প্লাসটিড | বর্ণযুক্ত অর্থাৎ ক্রোমোপ্লাসটিড বিভিন্ন প্রকারের হয় , যেমন :
( i ) ক্লোরোপ্লাস্ট বা সবুজ বর্ণের প্লাসটিড — এগুলির গাছের সবুজ অংশে থাকে এদের গ্বহরে যে তরল থাকে তাকে ধাত্র বা স্ট্রোমা বলে। ধাত্রে বিভিন্ন খনিজ উপাদান ( Mg, Fe, Cu, Zn, Mn ), ভিটামিন , DNA , RNA এবং উৎসেচক থাকে। ধাত্রে অনেকগুলি চাকতির মতো আংশ স্তরে স্তরে সাজানো থাকে এদের গ্রানা বলে। প্রতিটি গ্রানা কতকগুলি একক পর্দা বেষ্টিত চ্যাপ্টা থলির মতো আংশ নিয়ে গঠিত এদের থাইলাকয়েড বলে। থাইলাকয়েডের মধ্যে কোয়ান্টোজোম দানা থাকে। কোয়ান্টোজোমের মধ্যে ক্লোরোফিল রঞ্জক থাকে। পাশাপাশি দুটি গ্রানা যে নলাকার আংশ দিয়ে যুক্ত থাকে, তাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি বলে। গ্রানা অঞ্চলে সালোকসংশ্লেষের আলোক বিক্রিয়া এবং স্ট্রোমা অঞ্চলে সালোকসংশ্লেষের অন্ধকার বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।

ক্লোরোপ্লাস্ট বা সবুজ বর্ণের প্লাসটিড
ক্লোরোপ্লাস্ট 


( ii ) ফিওপ্লাস্ট বা বাদামী বর্ণের প্লাসটিড ,
( iii ) রোডোপ্লাস্ট বা লাল বর্ণের প্লাসটিড ,
( iv ) জ্যান্থোপ্লাস্ট বা হলুদ বর্ণেরপ্লাসটিড
( v ) ক্যারোটিনোপ্লাস্ট বা কমলা বর্ণের প্লাসটিড
রঙীন প্লাসটিড উদ্ভিদের ফুল , ফলের ত্বক ইত্যাদি স্থানে থাকে । পরাগমিলনে ও ফল বা বীজের বিস্তারে সহায়তা করা এই রকম প্লাসটিডের কাজ । উদ্ভিদের যে অংশে আলো পৌঁছায় না অর্থাৎ মূলের কোষে বর্ণহীন লিউকোপ্লাসটিড থাকে । খাদ্য সঞ্চয়ের প্রকৃতি অনুসারে এই জাতীয় প্লাসটিড নানা রকমের হয় , যেমন :
( a ) অ্যামাইলোপ্লাস্ট : এই জাতীয় প্লাসটিডের মধ্যে শ্বেতসার সঞ্চিত থাকে ।
( b ) এলাইওপ্লাস্ট : এই রকম প্লাস্টিডের মধ্যে স্নেহজাতীয় খাদ্য সঞ্চিত থাকে ;
( c ) অ্যালিউরোনপ্লাস্ট : এই জাতীয় প্লাসটিডের মধ্যে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য সঞ্চিত থাকে ।

মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের পার্থক্য :

মাইটোকন্ড্রিয়া ক্লোরোপ্লাস্ট
1. সকল আদর্শ কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। 1. কেবল উদ্ভিদের সবুজ কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
2. অন্তঃপর্দা ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে। 2. অন্তঃপর্দা ভাঁজ হয় না তাই ক্রিস্টি গঠন করে না ।
3. ধাত্রে কোনো রঞ্জক থাকে না। 3. ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রনায় ক্লোরোফিল রঞ্জক থাকে ।
4. শ্বসনে অংশগ্রহন করে। 4. সালোকসংশ্লেষে অংশগ্রহন করে।

4. সেন্ট্রোজোম ( Centrosome ) :

প্রাণিকোষের সাইটোপ্লাজমে নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থিত উজ্জ্বল তারকার মত অঙ্গাণুকে সেন্ট্রোজোম বলে । সেন্ট্রোজোম সেন্ট্রোস্ফিয়ার ( Centrosphere ) এবং সেন্ট্রিওল ( Centriole ) নিয়ে গঠিত । সেন্ট্রোজোমে সাধারণত দুটি সেন্ট্রিওল থাকে । এগুলি দেখতে অনেকটা দু'মুখ খোলা পিপের মত । বোভেরি ( 1888 ) সেন্ট্রিওল আবিষ্কার করেন। এর অংশগুলি হলো :
1. মাইক্রোটিউবিউল বা অনুনালিকা ( Microtubule ):এগুলি ন'টি ত্রয়ী - অনুনালিকা নিয়ে গঠিত । প্রতিটি অনুনালিকা সমদূরত্বে অবস্তিত তিনটি করে উপনালিকা বা সাব-টিউবিউল ( Sub-tubule )নিয়ে গঠিত। এদের বিজ্ঞানী থ্রেডগোল্ড ( Threadgold, 1968 ) যথাক্রমে A, B ও C নামে নাম কারণ করেন। একেবারে ভিতরটি A মাঝেরটি B এবং একেবারে বাইরেরটি C নামে অভিহিত করেন।
লিংকার ( Linker ): প্রতিটি এয়ীর A উপনালিকা পার্শবর্তী এয়ীর C উপনালিকার সঙ্গে একটি ঘন প্রোটিন পদার্থের যোজক দিয়ে যুক্ত থাকে, একে লিংকার বলে।
ইন্ট্রাসেন্ট্রিওলার গঠন ( Intracentriolar Structure ): প্রস্তছেদে সেন্ট্রিওলের কেন্দ্রে একটি গরুর গাড়ির চাকার মতো সংগঠন দেখা যায় , একে কার্ট হুইল মডেল বলে।

সেন্ট্রোজোম ( Centrosome )
সেন্ট্রোজোম ( Centrosome )

কাজ :
( i ). প্রাণিকোষের বিভাজনের সময় বেম তত্ত্ব গঠন করা সেন্ট্রোজোমের প্রধান কাজ । কয়েকপ্রকার ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবালে ( ক্ল্যামাইডোমোনাস ) অনুন্নত প্রকৃতির সেন্ট্রোজোম দেখা যায় ।
( ii ). শুক্রানুর পুচ্ছ গঠন করে।

5. এণ্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম ( Endoplasmic reticulum ) :

ইউক্যারিওটিক কোষের সাইটোপ্লাজমে নিউক্লিয় - পর্দা থেকে কোষ - পর্দা পর্যন্ত বিস্তৃত যে চ্যাপ্টা থলি বা নালিকার মত অঙ্গাণু কোষের সাইটোপ্লাজমকে অসংখ্য প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে , তাদের এণ্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম বলে । গঠন অনুসারে এরা তিন প্রকারের হয় , যথা : সিস্টারনি ( cisternae ) , টিউবিউল ( tubules ) এবং ভেসিকল ( vesicles ) । 

এণ্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম ( Endoplasmic reticulum )
এণ্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম

  এণ্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলামের কাজ ( Function of ER ):
( i ). সাইটোপ্লাজমের কাঠামো গঠন করা এবং কোষের বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলিকে পৃথক রাখা এদের প্রধান কাজ ।
( ii ). অমসৃণ ER প্রোটিন সংশ্লেষ করে।
( iii ). মসৃন ER ফ্যাট সংশ্লেষ করে।
( iV ). মসৃন টেস্টোস্টেরন ,প্রোজেস্টেরন ইত্যাদি কয়েকটি স্টেরযেড হরমোন ক্ষরণ করে।

6. লাইসোজোম ( Lysosome ) :

প্রাণিকোষের সাইটোপ্লাজমে পর্দাঘেরা উৎসেচকপূর্ণ কতকগুলি ছোট ছোট থলির মত অঙ্গাণু থাকে , এদের লাইসোজোম বলে । ডি. ডুভে ( 1955) লাইসোসোম আবিষ্কার করেন। লাইসোজোমকে সুইসাইড ব্যাগ বলা হয়। এগুলি সাধারণত কোষ অভ্যন্তরীণ পরিপাকে সহায়তা করে । শুক্রাণু উৎসেচক নিক্ষেপ করে ডিম্বাণুর প্রাচীরকে পাচিত করে শুক্রাণুর প্রবেশ পথ তৈরী করে। লাইসোজোম এছাড়াও উৎসেচক নিক্ষেপ করে ব্যাকটেরিয়া , ভাইরাস ইত্যাদি ধংস করে।

লাইসোজোম ( Lysosome )
দুটি ভিন্ন আকারের লাইসোজোম 

7. রাইবোজোম ( Ribosome ) :

কোষের সাইটোপ্লাজমে ( আদি কোষে ) বা এণ্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলামের গায়ে ( আদর্শ কোষে ) রাইবো - নিউক্লিও প্রোটিন দ্বারা গঠিত যে দানা গুলি থাকে , তাদের রাইবোজোম বলে। প্যালাডে ( 1955 ) প্রথম রাইবোজোম নামকরণ করেন। রাইবোজোম আকারে প্রায় উপবৃত্তাকার এবং দুপাশথেকে ঈষৎ চ্যাপ্টা। প্রতিটি রাইবোজোম দুটি উপএকক নিয়ে গঠিত যথা 70S এবং 80S । 70S রাইবোজোমে এই উপএকক দুটি হলো 50S ও 30S এবং 80S রাইবোজোমে উপএকক দুটি হল 60S ও 40S । m-RNA-এর ওপর রাইবোজোমগুলি যখন সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে তখন তাদের পলিজোম বা পলিরাইবোজোম বলে। প্রোটিন সংশ্লেষ করা রাইবোজোমের প্রধান কাজ । এই কারণে রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।

70S এবং 80S রাইবোজোম
70S এবং 80S রাইবোজোম 

প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক ( বা আদি কোশ ও আদর্শ ) পার্থক্য (Difference between Prokaryotic and Eukaryotic cell ) :

প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক ( বা আদি কোশ ও আদর্শ ) কোশের প্রধান পার্থক্যগুলি হল :

বিষয় প্রোক্যারিওটিক কোশ বা আদি কোশ ইউক্যারিওটিক কোশ বা আদর্শ কোশ
1. কোশপ্রাচীর কোশপ্রাচীর থাকে , যার মুখ্য উপাদান হল— মিউকোপেপটাইড বা পেপটাইডোগ্লাইক্যান । উদ্ভিদকোশে কোশপ্রাচীর থাকে যার মুখ্য উপাদান সেলুলোজ , প্রাণীকোশে কোশপ্রাচীর থাকে না ।
2. নিউক্লিয়াস আদি নিউক্লিয়াস যা নিউক্লিয় পর্দা , নিউক্লিওলাস এবং নিউক্লিয় জালকবিহীন । এটি কেবল DNA দিয়ে গঠিত । এই রকম নিউক্লিয়াসকে নিউক্লিওয়েড বলে । আদর্শ নিউক্লিয়াস যা নিউক্লিয় পর্দা , নিউক্লিওলাস , নিউক্লিয় রস এবং নিউক্লিয় জালক নিয়ে গঠিত ।
3. কোশ - অঙ্গাণু আদি কোশে পর্দাঘেরা কোনো কোশ - অঙ্গাণু ( প্লাসটিড , মাইটোকন্ড্রিয়া , গলগি বস্তু , লাইসোজোম ইত্যাদি ) থাকে না । এই কোশে পর্দাঘেরা কোশ - অঙ্গাণু থাকে ।
4. রাইবোজোম 70S ( 505 + 30S ) প্রকৃতির এবং ক্ষুদ্র । 80S ( 60S + 40S ) প্রকৃতির এবং বড়ো ।
5. শ্বসন উৎসেচক সাইটোপ্লাজমে বা প্লাজমাপর্দার অন্তঃগাত্রে থাকে । সাইটোপ্লাজমে এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে থাকে ।
6. ক্রোমোজোম সাধারণত থাকে না । নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে ।
7. কোশ বিভাজন অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে ঘটে । মাইটোসিস এবং মিয়োসিস পদ্ধতিতে ঘটে ।
৪. ভ্যাকুওল সাধারণত থাকে না । উদ্ভিদকোশে থাকে , প্রাণীকোশে সাধারণত থাকে না ।
9. DNA প্রোটিনের সঙ্গে সংযুক্তভাবে থাকে না , অর্থাৎ নগ্ন ( naked ) থাকে । প্রোটিনের সঙ্গে সংযুক্তভাবে থাকে ।

উদ্ভিদ কোষের এবং প্রাণী কোষের প্রথান পার্থক্য ( Different between Plant cell and Animal cell ) :

বিষয় উদ্ভিদকোশ প্রাণীকোশ
1. কোশপ্রাচীর থাকে । থাকে না ।
2. পিনোসাইটিক গহ্বর গঠিত হয় না । গঠিত হয় ।
3. ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে ( ব্যতিক্রম — ছত্রাক ) । থাকে না ( ব্যতিক্রম — ইউগ্লিনা , ক্রাইস্যামিবা ) ।
4. সেন্ট্রোজোম অনুপস্থিত । উপস্থিত ।
5. লাইসোজোম সাধারণত থাকে না । থাকে ।
6. ভ্যাকুণ্ডল সংখ্যায় অনেক এবং অপেক্ষাকৃত বড়ো আকারের । সংখ্যায় কম ও ক্ষুদ্র । অনেক ক্ষেত্রে থাকে না ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post