পাল ও সেন বংশের কয়েকজন রাজা

৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে গৌড় রাজ্ শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় ১৫০ বছর বাংলায় মৎস্যন্যায় চলতে থাকে। এর হাতথেকে বাংলাকে উদ্ধারের জন্য পাল রাজ গোপাল এর কৃতিত্ব।

পাল রাজা

গোপাল ( ৭৫০-৭৭০ খ্রি. ) : পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা।

ধর্মপাল ( ৭৭০-৮১০ খ্রি. ) : পাল বংশের শ্রেষ্ট রাজা। ত্রি-শক্তির যুদ্ধ ( বাংলার পাল , দাক্ষিণাত্যর রাষ্ট্রকূট , মালাবের গুর্জর প্রতিহার বংশ ) হর্ষের রাজধানী কৌনজ দখল নিয়ে। প্রতিহার বংশের রাজা দ্বিতীয় নাগভট্ট ধর্মপালকে পরাজিত করে কৌনজ দখল করে। এর পর রাষ্ট্রকূট রাজ তৃতীয় গোবিন্দ নাগভট্টকে পরাজিত করে দক্ষিণে চলে গেলে , সেই সুযোগের সুবিধা নিয়ে ধর্মপাল কৌনজ দখল করে।
ধর্মপাল মগধে বিক্রমশীলা মহাবিহার , ওদন্তপুরী বিহার ও সোমপুরী বিহার স্থাপন করে।

দেবপাল ( ৮১০-৮৫০ খ্রি. ) : বদাল স্তম্ভলিপিতে তাঁর উত্তর হিমালয় থেকে বিন্ধা পর্বত এবং পূর্ব সাগর থেকে পশ্চিম সাগর সাম্রাজ্যের কথা জানা যায়। দর্ভপানিকেদার মিশ্র তাঁর সেনাপতি ছিলেন। তিনি গুর্জর রাজ মিহিরভোজ বা প্রথম ভোজ এবং দ্রাবিড় রাজ রাষ্ট্রকূট অধিপতি অমোঘবর্ষকে পরাজিত করেন।
জাভা ও সুমাত্রার শৈলেন্দ্র বংশীয় রাজা বালপুত্রদেব নালন্দায় বোদ্ধমঠ স্থাপনের জন্য পাঁচটি গ্রাম ভিক্ষা চাইলে তিনি তা মুঞ্জুর করেন।

প্রথম মহীপাল (৯৮৮-১০৩৮ খ্রি. ) : পাল বংশের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। এই সময় চোল রাজ রাজেন্দ্র চোল বাংলার ওপর আক্রমণ করেন (১০২১-১০২২ খ্রি. )। গাঙ্গীয়দেব কলচুরির নেতৃত্বে কলচুরি আক্রমণ (১০২৬ খ্রি. ) হয় এবং মহীপাল পরাজিত হন।

দ্বিতীয় মহীপাল : দ্বিতীয় মহীপালের কুশাসনে উত্তর বঙ্গে বা বরেন্দ্রভূমিতে দিব্য বা দিব্বোক এর নের্তৃত্বে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়। দ্বিতীয় মহীপাল পরাজিত এবং নিহত হয়।

রামপাল (১০৭৭-১১৩০ খ্রি. ) : দ্বিতীয় মহীপালের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামপাল সিংহাসনে বসেন। সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত কাব্যগন্থের নায়ক তিনিই।

রামপালের মৃত্যুর পর পাল বংশের শেষ রাজা মাদল পালকে বিজয় সেন পরাজিত করে মগধে স্বাধীন সেন বংশের প্রতিষ্টা করেন।

সেন রাজ

সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন। তাঁর পুত্র হেমন্ত সেন পালরাজাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাঢ় অঞ্চলে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্টা করেন। তাঁর পুত্র বিজয় সেন স্বাধীন সেন বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। বিজয়সেনের দুটি রাজধানী ছিল - পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুর এবং অন্যটি পশ্চিমবঙ্গের বিজয়পুর। কবি উমাপতি ধর এবং শ্রীহর্ষ তাঁর বিজয় প্রশস্তি রচনা করেন।

বল্লাল সেন ( ১১৫৮-১১৭৯ খ্রি. ) : বল্লাল সেন ঘোরতর ব্রাহ্মণ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন। দানসাগর এবং অদ্ভুতসাগর নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। আনন্দভট্ট তাঁর সম্পর্কে বল্লালচরিত রচনা করেন। মালদহের সন্নিকটে গৌড় নাগরী নির্মাণ করেন এবং পুত্র লক্ষণ সেনের নাম অনুসারে গৌড়এর নাম হয় লক্ষনাবর্তী

লক্ষণ সেন ( ১১৭৯-১২০৫ খ্রি. ) : পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ অদ্ভুতসাগর তিনি সমাপ্ত করেন। গীতগোবিন্দ রচয়িতা জয়দেব , পাবনদূত রচয়িতা ধোয়ী , হুলায়ূধ তাঁর সভাকবি ছিলেন। লক্ষণ সেনের আমলে মহম্মদ ঘুরির অনুচর বখতিয়ার খলজি বাংলা - বিহার জয় করেন। ১১৯৯ খ্রি. বখতিয়ার খলজি ওদন্তপুরি বিহারটি ধ্বংস করে প্রচুর ধন সম্পত্তি লুট করেন। 



আরো পড়ুন :

শশাঙ্ক ও হর্ষবর্ধন

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post