অ্যাটর্নি জেনারেল, অ্যাডভোকেট জেনারেল ও সলিসিটর জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল, অ্যাডভোকেট জেনারেল ও সলিসিটর জেনারেল

ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল ( এজি ) :

সংবিধানে উল্লেখ : সংবিধানের ৭৬ নং ধারা

নিয়োগ : অ্যাটর্নি জেনারেল ( এজি ) সংবিধানের ৭৬ ( ১ ) ধারা অনুযায়ী ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিযুক্ত হন ।

যোগ্যতা : ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার জন্য যে সমস্ত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় -
( ১ ) তাঁকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে ।
( ২ ) তাঁকে অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে । অর্থাৎ তাকে অবশ্যই পাঁচ বছরের জন্য কোনো হাইকোর্টের বিচারপতি বা দশ বছরের জন্য কোনোও হাইকোর্টের আইনজীবী হতে হয় ।
( ৩ ) রাষ্ট্রপতির মতে একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ হতে হয় ।

মেয়াদ : রাষ্ট্রপতির দ্বারা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যকালের মেয়াদ নির্ধারিত হয় , সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট কার্যকালের মেয়াদ করা নেই । সংবিধানে তাকে অপসারণের কোন পদ্ধতি বা কারণের উল্লেখ নেই । এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েও পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন । অনেক সময় লক্ষ করা গেছে সরকার পরিবর্তন হলে তিনি পদত্যাগ করেন ।

বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা : সংবিধানে তাঁর পারিশ্রমিক বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কোনো উল্লেখ নেই । রাষ্ট্রপতির নির্দিষ্ট করে দেওয়া পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তিনি ভোগ করে থাকেন ।

কার্যাবলী : অ্যাটর্নি জেনারেল ( এজি ) যে সমস্ত কাজ ও কর্তব্য পালন করে থাকেন সেগুলি হলো -
( ১ ) ভারত সরকারকে আইনি পরামর্শ প্রদান করা ।
( ২ ) সুপ্রিম কোর্ট সহ ভারতের যে কোন আদালতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকতে পারেন ।
( ৩ ) সংবিধানের 143 নং ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সুপারিশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে বক্তব্য রাখতে পারে ।
( ৪ ) রাষ্ট্রপতি বা সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা ।
( ৫ ) সংসদের উভয় কক্ষের অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন । এবং নিজস্ব মতামত প্রদান করতে পারেন , কিন্তু কখনোই ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না ।

বর্তমান চেয়ারম্যান : ভারতের বর্তমান এবং ১৫ তম অ্যাটর্নি জেনারেল কে. কে. ভেনুগোপাল ( 1 জুলাই ২০১৭ - বর্তমান ) ।

ভারতের সলিসিটর জেনারেল :

সংবিধানে উল্লেখ : সলিসিটর জেনারেল ও অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলর পদগুলি সংবিধিবদ্ধ। সংবিধানে এই পদের উল্লেখ নেই।

নিয়োগ : ক্যাবিনেটের নিয়োগ কমিটি ( ACC ) সুপারিশ করে এবং রাষ্ট্রপতি সলিসিটর জেনারেলকে নিয়োগ করেন । সলিসিটর জেনারেল এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল নিয়োগের প্রস্তাব সাধারণত আইন বিষয়ক বিভাগে যুগ্ম সচিব / আইন সচিবের স্তরে স্থানান্তরিত হয় এবং আইন ও বিচার মন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর , প্রস্তাবটি ACC- এর কাছে যায় এবং তারপরে রাষ্ট্রপতির কাছে ।

মেয়াদ : সংবিধানে সলিসিটর জেনারেলের কার্যকালের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা নেই । সংবিধানে তাকে বহিষ্কারের জন্য কোনো পদ্ধতি বা কারণের উল্লেখ নেই ।

বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা : সংবিধানে তাঁর পারিশ্রমিক বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কোনো উল্লেখ নেই । রাষ্ট্রপতির নির্দিষ্ট করে দেওয়া পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তিনি ভোগ করে থাকেন ।

কার্যাবলী : সলিসিটর জেনারেল যে সমস্ত কাজ ও কর্তব্য পালন করে থাকেন সেগুলি হলো -
( ১ ) ভারত সরকারকে আইনি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া ।
( ২ ) ভারত সরকার কর্তৃক তার পরামর্শের জন্য পাঠানো আইনি চরিত্রের অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন ।
( ৩) প্রয়োজনে , ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে বা কোনও হাইকোর্টে সলিসিটর জেনারেলকে হাজির হতে হয় ।
( ৪ ) ১৪৩ নং ধারার অধীনে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন ।
( ৬ ) সংবিধান বা অন্য কোনো আইনের অধীনে অর্পিত অন্যান্য কার্য সম্পাদন করা ।

বর্তমান চেয়ারম্যান : ভারতের বর্তমান এবং ২৩ তম সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ( ১১ অক্টোবর বর্তমান ) ।

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল :

সংবিধানে উল্লেখ : সংবিধানের ১৬৫ নং ধারা।

নিয়োগ : রাজ্যপাল রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল নিয়োগ করেন ।

যোগ্যতা : রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল হওয়ার জন্য যে সমস্ত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় -
( ১ ) তাঁকে ভারতের নাগরিক হতে হয় ।
( ২ ) তাঁকে হাইকোর্টের বিচারপতি হবার যোগ্যতা রাখতে হবে , অর্থাৎ হাইকোর্টের বা জেলা কোর্টের উকিল হিসাবে দশ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বা হাইকোর্টের বা জেলা কোর্টের বিচারপতি হিসাবে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ।

মেয়াদ : সংবিধানে অ্যাডভোকেট জেনারেলের কার্যকালের নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি । সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপাল , অ্যাডভোকেট জেনারেলের কার্যকালের মেয়াদ নির্দিষ্ট করেন । তাকে অপসারণের জন্য সংবিধানে কোন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়নি । এছাড়া তিনি রাজ্যপালকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েও পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন । অনেক সময় লক্ষ করা গেছে সরকার পরিবর্তন হলে তিনি পদত্যাগ করেন , কারণ তিনি তাঁদের সুপারিশে নিযুক্ত হয়ে থাকেন ।

বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা : রাজ্যপালের নির্দিষ্ট করে দেওয়া পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তিনি ভোগ করে থাকেন ।

কার্যাবলী : অ্যাডভোকেট জেনারেল যে সমস্ত কাজ ও কর্তব্য পালন করে থাকেন সেগুলি হলো -
( ১ ) অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজ্যের সর্বোচ্চ আইনি আধিকারিক হওয়ায় তিনি রাজ্য সরকারকে সমস্ত ধরণের আইনি পরামর্শ প্রদান করতে পারেন যার জন্য রাজ্যপাল তাঁকে নির্দেশ প্রদান করেছে ।
( ২ ) রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে রাজ্যের আদালতে তিনি উপস্থিত থাকতে ও বক্তব্য রাখতে পারেন ।
( ৩ ) রাজ্য বিধানসভার উভয় কক্ষের অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন এবং নিজস্ব মতামত প্রদান করতে পারেন কিন্তু কখনোই ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না ।
( ৪ ) রাজ্যপাল কর্তৃক প্রদান করা আইনি কর্তব্য এবং সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত আইনি কর্তব্য পালন করে থাকেন ।

বর্তমান চেয়ারম্যান : প্রতিটি রাজ্যে আলাদা ( পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অ্যাডভোকেট জেনারেল এস . এন . মুখার্জি ) ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post