বিভিন্ন প্রকার ক্যাপিটাল মার্কেট ইন্সট্রুমেন্ট

বিভিন্ন প্রকার ক্যাপিটাল মার্কেট ইন্সট্রুমেন্ট

এক বছর বা তার বেশি ম্যাচুইরিটি সম্পন্ন ফান্ডের ক্রয় বিক্রয় ক্যাপিটাল মার্কেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় । ক্যাপিটাল মার্কেট দুই প্রকার - প্রাইমারি সেকেন্ডারি । প্রাইমারি মার্কেটে যে কোনো নতুন সিকিউরিটি ইস্যু করা হয় এবং সেকেন্ডারি মার্কেটে অধিকৃত সিকিউরিটির ক্রয় - বিক্রয় করা হয় ।

ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগের মাধ্যম :

১। শেয়ার :

শেয়ার দু'প্রকার - কমন শেয়ারপ্রেফার্ড শেয়ার । কমন স্টক হোল্ডাররা শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি এবং ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে লাভ করতে পারে । এদের ভোটিং রাইটস থাকে । কোনো সংস্থা দেউলিয়া হলে কমন স্টক হোল্ডারদের দেনা সবচেয়ে শেষে মেটানো হয় । অপরদিকে , প্রেফার্ড স্টক হোল্ডারদের একটি ফিক্সড পূর্ব নির্ধারিত ডিভিডেন্ড পেমেন্ট করা হয় । এদের ভোটিং রাইটস থাকে না । কোনো সংস্থা দেউলিয়া হলে কমন স্টক হোল্ডারদের আগেই এরা পেমেন্ট পায় । প্রসঙ্গত , শেয়ার বিক্রি করে কোনো সংস্থা যে মূলধন বাড়ায় তাকে স্টক বলে ।

২। ডিবেঞ্চার :

এটি এক প্রকার ডেট ইন্সট্রুমেন্ট যা কোনো অ্যাসেট বা কোল্যাটারাল দ্বারা সুরক্ষিত থাকে না । ইস্যুয়ারের রেপুটেশনরে ওপর নির্ভর করে ডিবেঞ্চার ক্রয় বিক্রয় করা হয় । ডিবেঞ্চার দু'প্রকারের - কনভার্টিবল নন - কনভার্টিবল । কনভার্টিবল ডিবেঞ্চারগুলিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ইকুইটি শেয়ারে পরিবর্তন করে নেওয়া যায় , কিন্তু নন - কনভার্টিবল ডিবেঞ্চারগুলিকে ইকুইটি শেয়ারে কনভার্ট করা যায় না ।

৩। বন্ড :

এটি একপ্রকারের ঋণ যা ফিজিক্যাল অ্যাসেট দ্বারা সুরক্ষিত থাকে । ডিবেঞ্চারের থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা কারণ ডিবেঞ্চার কেবলমাত্র ইস্যুয়ারের প্রমিসের ওপর নির্ভর করে , এক্ষেত্রে কোনো রকম অ্যাসেটের ব্যাকআপ থাকে না । ডিবেঞ্চারের তুলনায় বন্ডের সুদের হার কম থাকে যেহেতু এক্ষেত্রে ঝুঁকিও কম থাকে ।

বন্ডের প্রকারভেদ :

(a) মশলা বন্ড :

ভারতীয় সংস্থা বিদেশে এইরূপ বন্ড ইস্যু করে কিন্তু বন্ডটি ভারতীয় টাকায় রিডিম করা হয় , বিদেশি মুদ্রায় নয় । ভারতীয় সংস্কৃতিকে প্রমোট করার উদ্দেশ্যে এই টার্মটি প্রয়োগ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স কর্পোরেশন ।

(b) জিরো কুপন বন্ড :

জিরো কুপন বন্ডের ক্ষেত্রে কোনো সুদ প্রযোজ্য হয় না । পরিবর্তে এটি ডিসকাউন্টে ট্রেড করা হয় ও ফেস ভ্যালুতে রিডিম করা হয় ।

(c) ফ্লোটিং রেট বড় :

ভেরিয়েবল কুপন রেটে এই ধরনের বন্ড ইসু করা হয় ।

(d) সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট বন্ড :

বিত্তশালী গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের ইস্যু করা হয় এই প্রকার বন্ড । এই ক্ষেত্রে 3 % বার্ষিক সুদের হার প্রযোজ্য হয় এবং এগুলির মেয়াদ থাকে 5 বছর ।

৪। ডেরিভেটিভস :

এটি একপ্রকার ফিনান্সিয়াল সিকিউরিটি যার অন্তর্নিহিত মূল্য সংশ্লিষ্ট অ্যাসেটের ওপর নির্ভরশীল । এই অ্যাসেটগুলি হল স্টক বন্ড , বন্ড , কমোডিটি , কারেন্সি , ইন্টারেস্ট রেট ও মার্কেট ইনডেক্স ইত্যাদি । ওভার দ্য কাউন্টার বা স্টক এক্সচেঞ্জে এই ডেরিভেটিভ ট্রেড করা হয় ।

ডেরিভেটিভের প্রকারভেদ :

ফিউচার : দুটি পার্টির মধ্যে এটি এক প্রকার চুক্তি যে একটি নির্দিষ্ট মূল্যে নির্দিষ্ট সময়ে একটি অ্যাসেট ক্রয় ও ডেলিভারি করা হবে ।

ফরওয়ার্ড : এটি একপ্রকার নন - স্ট্যান্ডার্ডাইজড কন্ট্রাক্ট যেখানে দু'টি পার্টি চুক্তি করে যে বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যে কোনো অ্যাসেট নির্দিষ্ট সময় পরে ক্রয় বা বিক্রয় করা হবে ।

সোয়াপ : একটি ক্যাশ ফ্লো থেকে অপর একটি ক্যাশ ফ্লো - তে পরিবর্তন করার জন্য এই প্রকার সোয়াপ ব্যবহার করা হয় । যেমন , কোনো বিনিয়োগকারী ফিক্সড ইন্টারেস্ট লোন থেকে ভেরিয়েবল ইন্টারেস্ট রেট - এ সুইচ করার জন্য ইন্টারেস্ট রেট সোয়াপ ব্যবহার করতে পারেন ।

অপশন : এক্ষেত্রে ক্রেতা অপশনটি এক্সারসাইজ করার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয় কখনোই কিন্তু যদি ক্রেতা সেটি করতে চায় তাহলে অপশন বিক্রেতা আন্ডারলাইং অ্যাসেটটি ক্রয় বা বিক্রয় করতে বাধ্য থাকেন ।

ওয়ারেন্ট : এটি একটি বিলম্বিত সময়ের জন্য নির্ধারিত অপশন , সাধারণত সময়কালটি এক বছরের বেশি ।

লিপস : এটি হল , লং টার্ম ইকুইটি এন্টিসিপেশন সিকিউরিটিজ । এগুলি হল এক প্রকার অপশন যার সময়কাল তিন বছর পর্যন্ত নির্ধারিত করা হয় ।

৫। জি - সেক ( গিল্ট এজড্ সিকিউরিটি ) :

এটি এক প্রকার বন্ড যা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার দ্বারা ইস্যু করা হয় । এগুলি রিস্ক ফ্রি ট্রেডেবল ইন্সট্রুমেন্ট । কেন্দ্রীয় সরকার লং টার্ম ও শর্ট টার্ম ডেটেড সিকিউরিটি ইস্যু করে যেখানে রাজ্য সরকার কেবলমাত্র শর্ট টার্ম ডেটেড সিকিউরিটি ইস্যু করে থাকে ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post