গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত (Important international borders)

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত

ভারতের এবং পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত :

সীমানার নাম সৃষ্টিকাল (খ্রিস্টাব্দ) যে দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ম্যাকমোহন লাইন ১৯১৪ ভারত এবং চীন (পূর্বতম তিব্বত) ১৯১৪ সালে সিমলা চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারত ও তৎকালীন তিব্বতের মধ্যে এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল । ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ভিনসেন্ট আর্থার হেনরি ম্যাকমোহনের নামানুসারে এই সীমানার নামকরণ করা হয়েছে ।
ডুরান্ড লাইন ১৮৯৩ পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত এবং আফগানিস্তানের মধ্যে এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল । আফগানিস্তানের সুলতান আব্দুর রহমান খান ব্রিটিশ কূটনীতিক মর্টিমার ডুরান্ডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সীমানা নির্মাণ করা হয় এবং মর্টিমার ডুরান্ডের নামানুসারে এই সীমানার নামকরণ করা হয় । বর্তমানে এই সীমানার অধিকাংশ অঞ্চল পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে অবস্থিত হলেও ৮০ কিমি অঞ্চল ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে অবস্থিত যা পাকিস্তান অবৈধভাবে নিজেদের দখলে রেখেছে ।
র‍্যাডক্লিফ লাইন ১৯৪৭ ভারত এবং পাকিস্তান ও ভারত এবং বাংলাদেশ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতকে দুটি ভিন্ন স্বাধীন দেশ হিসাবে গঠনের জন্য পাঞ্জাব রাজ্যকে দ্বিভাগ করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এবং বঙ্গদেশকে বিভক্ত করে ভারত ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে এই সীমানা নির্মাণ করা হয়েছিল । স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফের নামানুসারে এই সীমানার নামকরণ করা হয়েছিল ।
লাইন অফ কন্ট্রোল ১৯৪৯ ভারত এবং পাকিস্তান কাশ্মীরের আধিপত্য নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংগঠিত প্রথম যুদ্ধের পর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নির্দেশে এই সীমানা নির্মিত হয় । ১৯৭১ সালে ইন্দো - পাকিস্তান যুদ্ধের পর দুই দেশ সিমলা চুক্তি মেনে ১৯৭২ সালে এই সীমানাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করে ।
পক প্রণালী -- ভারত এবং শ্রীলঙ্কা ভারত ও শ্রীলঙ্কা এই জলাভূমির দ্বারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে । ভারতের তামিলনাড়ুর ধনুষ্কোডি এবং শ্রীলঙ্কার তলাই মান্নারের মধ্যে এই জলাভূমি অবস্থিত । বঙ্গোপসাগর এবং মান্নার উপসাগরের মধ্যে এই প্রণালী অবস্থিত । ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রদেশের গভর্নর রবার্ট পকের নামানুসারে এই সীমানা নির্মিত হয়েছে ।
লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল ১৯৫৯ ভারত এবং চীন ভারতের পূর্ব লাদাখ এবং আকসাই চীনের মধ্যে এই সীমানা অবস্থিত যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রায়শই বিবাদ লক্ষ করা যায় ।
তিন বিঘা করিডর ১৯৭৪ ভারত এবং বাংলাদেশ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই সীমানা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে ।
স্যার ক্রিক লাইন ১৯৬৮ ভারত এবং পাকিস্তান ভারতের গুজরাত ও পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মধ্যে দীর্ঘ ৯৬ কিমি অঞ্চল জুড়ে এই সীমানা অবস্থিত । মূলত এই সীমানার বেশিরভাগ অংশই জলাভূমি । স্যার ক্রিকের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়েছে ।
২৪তম প্যারালাল লাইন -- ভারত এবং পাকিস্তান ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে গুজরাতে অবস্থিত এই সীমানা পাকিস্তান কর্তৃক নির্মিত হয়েছে । ভারতের তরফ থেকে এই সীমানাকে অস্বীকার করা হয়েছে ।
৪৯তম প্যারালাল লাইন -- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা বিশ্বের দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমানা ।
হিন্ডেনবার্গ লাইন ১৯১৭ জার্মানি এবং পোল্যান্ড প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল । অ্যালবারিচ অপারেশনের মাধ্যমে এই সীমানা দিয়েই জার্মান সেনাকে অপসারিত করা হয়েছিল ।
৩৮তম প্যারালাল ১৯৪৫ উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক সীমানা । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জাপান ও কোরিয়ার মধ্যে এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল । এই সীমানা দিয়েই জাপানি সেনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আত্মসমর্পণ করেছিল ।
ওদের-নিস লাইন ১৯৫০ পোল্যান্ড এবং জার্মানি পটডাম কনফারেন্স - এর মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল ।
ম্যানারহেম লাইন ১৯২৪ ফিনল্যাণ্ড ও রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এই সীমানা নির্মাণ করা হয়েছিল ।
সিগফ্রিড লাইন ১৯৩০ জার্মানি ও ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হিল্ডেনবার্গ লাইনের মধ্যে এই সীমানা নির্মাণ করা হয়েছিল ।
লাইন অফ ডিমারকেশন ১৪৯৮ পর্তুগাল ও স্পেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস ফিরে যাওয়ার পর এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল ।
ম্যাগিনট লাইন ১৯২৯ ফ্রান্স ও জার্মানি ফরাসি মন্ত্রী অ্যান্ড্রে ম্যাগিনট - এর নামানুসারে এই সীমানার নামকরণ করা হয়েছে ।
কার্জন লাইন ১৯১৯ পোল্যান্ড ও রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল ।
ফচ লাইন ১৯১৯ পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল ।
গ্রিন লাইন ১৯৪৯ ইসরায়েল এবং মিশর , জর্ডন , লেবানন , সিরিয়া ১৯৪৮ সালের আরব ইজরায়েল যুদ্ধের পর আর্মিস্টিস চুক্তি অনুযায়ী এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল ।
ব্লু লাইন ২০০০ লেবানন ও ইজরায়েল লেবানন ও ইজরায়েলের যুদ্ধের পর ইউনাইটেড নেশনস - এর নির্দেশে এই সীমানা নির্মিত হয় ।
পার্পল লাইন ১৯৬৭ ইজরায়েল ও সিরিয়া ছয় দিনের যুদ্ধের পর যুদ্ধ বিরতির মাধ্যমে এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল ।
আলপাইন লাইন ১৯৪০ ইতালি ও ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি ও ফ্রান্সের মধ্যে এই সীমানা নির্মিত হয়েছিল ।
সনোরা লাইন ১৮৫৩ মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম পুরাতন সীমানা ।
মিলিটারি ডিমারকেশন লাইন -- উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া এই সীমানা আর্মিস্টিস লাইন নামে পরিচিত ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post