ভারতীয় মূলধনী বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃতি

ভারতীয় মূলধনী বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃতি

( A ) মার্চেন্ট ব্যাঙ্ক :

মূলধন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নতুন শেয়ার ইস্যু ও আন্ডাররাইট করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের কনসালটেন্সি ও কর্পোরেট উপদেষ্টামুলক পরিষেবা প্রদান করে থাকে এই প্রকার সংস্থা ।

( B ) মিউচুয়াল ফান্ড :

স্টক , বন্ড , মানি মার্কেট ইন্সট্রুমেন্ট ও অন্যান্য অ্যাসেটে বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একটি ‘ পুল অফ মানি ’ তৈরি করে মিউচুয়াল ফান্ড ।

মিউচুয়াল ফান্ডের প্রকারভেদ :

১ । ওপেন এন্ডেড ফান্ড : একজন বিনিয়োগকারী নিজের ইচ্ছে ও সময় অনুযায়ী এই প্রকার মিউচুয়াল ফান্ড ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারেন ।

২ । ক্লোজ এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড : এক্ষেত্রে সাধারণত একবারই ইউনিট ইস্যু করা হয় , যখন মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থা কোনো অফার লঞ্চ করে যাকে নিউ ফান্ড অফার বলা হয় ।

৩ । এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড : এটি ওপেন এন্ডেড ও ক্লোজ এন্ডেড ফান্ডের সংমিশ্রণ । এগুলি স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেড ও ট্রেডেড হয় প্রতিদিন কিন্তু এগুলির মূল্য আন্ডারলাইং অ্যাসেটের সমতুল্যই হয় ।

( C ) হেজ ফান্ড :

এটি এক প্রকার ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড যা স্বনামধন্য ইনভেস্টর বা ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরের থেকে মূলধন সংগ্রহ করে জটিল পোর্টফোলিও সহ বিভিন্ন প্রকার অ্যাসেটে বিনিয়োগ করে । এক্ষেত্রে হেজ ফান্ডে নানা প্রকার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টেকনিক প্রয়োগ করা হয় ।

( D ) ভেঞ্চার ক্যাপিটাল :

এটি একথ প্রাইভেট ইকুইটি যা ফিনান্সের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে । এটি ক্ষুদ্র অথচ সম্ভবনাময় ফার্মকে ফান্ড সরবরাহ করে ।

( E ) এঞ্জেল ইনভেস্টর :

এক্ষেত্রে একজন বিত্তশালী বিনিয়োগকারী শিল্পোদ্যোগীদের কনভার্টিবল ডেট বা ইকুইটির ওনারশিপের পরিবর্তে মূলধন সরবরাহ করে থাকে ।

( F ) কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম ( CIS ) :

নির্দিষ্ট কোনো অ্যাসেটে বিনিয়োগ করার জন্য বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করা হয় । এই সি আই এস - এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ করে সেবি ।

( G ) অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড :

রিয়েল এস্টেট , প্রাইভেট ইকুইটি ও হেজ ফান্ডের জন্য এটি একটি নতুন বিনিয়োগ প্রক্রিয়া । এই এ আই এফ - কে নিয়ন্ত্রণ করে সেবি । মিউচুয়াল ফান্ড , ফ্যামিলি ট্রাস্ট , এমপ্লয়ি স্টক অপশন ও সি আই এস - এর আওতায় পড়ে না ।

( H ) ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টর :

স্টক মার্কেটের মাধ্যমে এরা বিনিয়োগ করে , সাধারণত কোনো সংস্থার 10 % -এর কম সত্ত্ব অধিগ্রহণ করে থাকে । এফ আই আই , সাব - অ্যাকাউন্ট ও কিউ এফ আই একত্রিত হয়ে নতুন বিনিয়োগ শ্রেণি গঠন করেছে যা ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টর নামে পরিচিত । এদের মোট বিনিয়োগ সীমা 24 % যা কোনো সংস্থা চাইলে নির্ধারিত সেক্টোরাল ক্যাপের মধ্যে বাড়াতে পারে । অ - নথিভুক্ত শেয়ার ও টি - বিলে এরা বিনিয়োগ করতে পারে না ।

( I ) কোয়ালিফায়েড ফরেন ইনভেস্টর :

এটি প্রবাসে বসবাসকারী কোনো গ্রুপ বা অ্যাসোসিয়েশন যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এফ এ টি এফ স্ট্যান্ডার্ডকে মান্য করে । এরা কর্পোরেট ডেট , ইকুইটিস , মিউচুয়াল ফান্ড ইত্যাদিতে সরাসরি বিনিয়োগ করতে পারে ।

( J ) ই এস জি ফান্ড :

এটি তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত , যথা - এনভায়রনমেন্ট , সোশ্যাল ও গভর্ন্যান্স । এটি এক প্রকারেরর মিউচুয়াল ফান্ড । নৈতিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করাই ই এস জি ফান্ডের মূল লক্ষ্য । এটি সেবি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post