সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা (Parliamentary system of Government)

সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা

সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা

সংবিধানের ৭৪৭৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে এবং ১৬৩১৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্য সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার কথা উল্লিখিত করা রয়েছে । বর্তমানে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত দু'ধরনের হয় যথা - সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপতি পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা । সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় এক্সিকিউটিভ বা কার্য নির্বাহক তার নীতি ও আইনের জন্য আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ । সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা ক্যাবিনেট শাসন ব্যবস্থা নামেও পরিচিত । মূলত ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য , ভারত , কানাডা , জাপানে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায় । ইবর জেনিং সংসদীয় শাসন ব্যবস্থাকে ' ক্যাবিনেট শাসন ব্যবস্থা ' বলে উল্লেখ করেছেন কারণ সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় ক্যাবিনেট সমস্ত ক্ষমতার মূল উৎস বা নিউক্লিয়াস । সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতায় থাকা শাসককে ' দায়বদ্ধ সরকার ' হিসাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে কারণ ক্যাবিনেট সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ এবং সংসদে শাসক যতক্ষণ সংখ্যা গরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে ততদিন ক্ষমতায় থাকবে । সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা ' ওয়েস্টমিনস্টার মডেল ' নামেও পরিচিত কারণ ব্রিটিশ সংসদ ওয়েস্টমিনস্টারেই অবস্থিত যেখানে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল । সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন সকল ক্ষমতার উৎস কারণ তাদের নির্দেশেই ক্যাবিনেট পরিচালিত হয়ে থাকে এবং তাদের উপদেশেই রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপাল বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকে ।

সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য :

১। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যে রাজ্যপাল হলেন নাম সর্বস্ব প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী হলেন আসল প্রধান । সংবিধানের ৭৪ নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্রপতি , প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের উপদেশ এবং সংবিধানের ১৬৩ নং ধারায় রাজ্যপাল , মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের উপদেশ মেনে কাজ করবেন ।
২। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক দল নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে তারাই শাসনকার্য পরিচালনা করে থাকে । সংখ্যা গরিষ্ঠ দলের নেতাকেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ করে থাকেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশেই রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপাল বাকি মন্ত্রীদের নিযুক্ত করেন তবে কোন দল যদি সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয় তাহলে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল একের বেশি দলকে জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠনের আহ্বান করতে পারে ।
৩। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সম্মিলিত দায়িত্ব সংবিধানের ৭৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী মন্ত্রীসভা সম্মিলিতভাবে সংসদের ওপর দায়বদ্ধ বিশেষ করে লোকসভার ওপর এবং সংবিধানের ১৬৪ নং ধারা অনুযায়ী রাজ্য মন্ত্রীসভা বিধানসভার প্রতি দায়বদ্ধ । যদি কোনো মন্ত্রী নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তাহলে বাকি মন্ত্রীসভাকেও পদত্যাগ করতে হয় বা যদি কোন একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নো কনফিডেন্ট মোশন পাশ হয় তাহলে পুরো মন্ত্রীসভা পদত্যাগ করতে বাধ্য থাকবে । অর্থাৎ , তারা একটি দল হিসাবে কাজ করে এবং একে অন্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে ।
৪। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক একাত্মতা বজায় থাকে । যেহেতু মন্ত্রীসভা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে থাকে ফলত তাদের রাজনৈতিক আদর্শ এক হয় ।
৫। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রী আইনসভা এবং এক্সিকিউটিভ উভয়ের সদস্য হন , কারণ সংসদের বা বিধানসভার সদস্য ব্যতীত কখনোই তিনি মন্ত্রী হতে পারবেন না । যদিও , সংবিধানে উল্লিখিত রয়েছে ছয় মাস পর্যন্ত কোন ব্যক্তি সংসদের বা বিধানসভার সদস্য ব্যতীত মন্ত্রী হতে পারেন তারপর তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে হবে ।
৬। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন । তারা একদিকে যেমন মন্ত্রীসভাকে নেতৃত্ব প্রদান করেন তেমনি অন্যদিকে সংসদ , বিধানসভা ও ক্ষমতায় থাকা দলকে নেতৃত্ব প্রদান করে থাকেন ।
৭। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাষ্ট্রপতি সংসদের নিম্নকক্ষ বা লোকসভা ভেঙে দিতে পারেন । অর্থাৎ , এক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ নিম্নকক্ষ ভেঙে দেবার ক্ষমতা রাখে ।
৮। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রীসভা গোপনীয়তা বজায় রাখে এবং ক্রিয়াকলাপ , পলিসি এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেন না ।

সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার সুবিধা :

১। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সরকারের আইনসভা এবং এক্সিকিউটিভের মধ্যে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখা । আইনসভার অন্যতম অংশ হল এক্সিকিউটিভ এবং ইহা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল । ফলস্বরূপ , সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় এক্সিকিউটিভ ও আইনসভার মধ্যে বিরোধ ও বিবাদের সম্ভাবনা কম ।
২। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় একটি দায়িত্বশীল সরকার পাওয়া যায় যারা দলগতভাবে সমস্ত ক্ষমতা উপভোগ করে , কোন ব্যক্তি বিশেষের ওপর সমস্ত ক্ষমতা অর্পিত থাকে না ।
৩। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় স্বৈরাচারী মনোভাব প্রতিহত করা যায় , কারণ এই ব্যবস্থায় ক্ষমতা ব্যক্তি বিশেষের উপর অর্পিত থাকে না । এই ব্যবস্থায় ক্ষমতা দলের ওপর অর্পিত থাকে যারা লোকসভার প্রতি দায়বদ্ধ ।
৪। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় শাসকদল সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারালে রাষ্ট্রপতি বিরোধী দলকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাতে পারেন । অর্থাৎ নির্বাচন ছাড়াই বিকল্প সরকার গঠন সম্ভব । এই . কারণেই ডঃ জেনিংস বলেছেন ' বিরোধী দলনেতা হলেন বিকল্প প্রধানমন্ত্রী ' ।

সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার অসুবিধা :

১। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল স্থায়ী সরকারের অভাব । প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী ততক্ষণ পদে থাকতে পারেন যতক্ষণ তারা সংখ্যা গরিষ্ঠতা বজায় রাখতে পারছেন । অর্থাৎ সংখ্যা গরিষ্ঠতা বজায় রাখতে না পারলে মেয়াদের পূর্বেই তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে ।
২। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অন্যতম অসুবিধা হল যে এক্ষেত্রে কোন দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রস্তুত এবং কার্যকর করা যায় না , কারণ শাসক পরিবর্তনের সাথে সাথেই নীতির পরিবর্তন ঘটে থাকে ।
৩। একথা ঠিক যে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা কোন ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয় কিন্তু , তা সত্ত্বেও লক্ষ্য করা গেছে যে কোনো ক্ষেত্রে বিশাল সংখ্যা গরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে ক্যাবিনেট এমন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যা শাসকের স্বৈরাচারী মনোভাবকে প্রতিষ্ঠিত করেছে । এই কারণেই এইচ জে লক্ষ্মী যথার্থই বলেছেন যে ' সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা এক্সিকিউটিভদের স্বৈরাচারের সুযোগ করে দেয় ' ।
৪। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার সদস্য ও এক্সিকিউটিভ একই ব্যক্তির হয় এবং ক্যাবিনেট আইনসভা তথা এক্সিকিউটিভের প্রধান হিসাবে কার্য করে থাকে । ফলত , ক্ষমতার বিভাজন না হওয়ায় অনেকক্ষেত্রে সরকারের একপেশে মনোভাব ফুটে ওঠে ।
৫। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনেক সময় যোগ্য ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য মন্ত্রীর পদ থেকে বঞ্চিত হন কারণ প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য মন্ত্রী হতে গেলে তাকে প্রথম আইনসভার সদস্য হতে হবে ।

ভারতে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ :

১। ব্রিটিশরা ভারতে দীর্ঘদিন শাসন করেছিলেন এবং ব্রিটেনে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় তার অনেকটাই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে । ফলস্বরূপ সংবিধান নির্মাতারা সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় তাকেই গ্রহণ করেন ।
২। ভারতীয় সংবিধানের জনক বি আর আম্বেদকর গণপরিষদে ঘোষণা করেন যে গণতন্ত্রে এক্সিকিউটিভকে দুই অবস্থার হতে হবে । এক , স্থায়িত্ব অন্যদিকে দায়িত্ববোধ । কিন্তু , এমন কোন উপাদান নেই যা এই দুটি অবস্থাকে একত্রে রাখবে । তাই বি আর আম্বেদকরের নেতৃত্বাধীন খসড়া কমিটি ব্রিটিশ শাসনের ন্যায় সংসদীয় শাসন ব্যবস্থাকেই শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করে ।
৩। সংবিধান নির্মাতারা চেয়েছিলেন এক্সিকিউটিভ এবং আইনসভার মধ্যে বিবাদ , বিতর্ক , বিরোধ দূরে রাখতে । সেই কারণে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয় ।
৪। ভারতের মতো বিশাল দেশে সব ধরনের জাতি , গোষ্ঠী , ধর্মের মানুষদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে সহায় প্রদানের জন্য সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় উত্তম বলে গণ পরিষদের খসড়া কমিটির সদস্যরা মনে করেন ।

* ১৯৭৫ সালে কংগ্রেস সরকারের তরফ থেকে সরণ সিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল , ভারতে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত না রাষ্ট্রপতি পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা উচিত তার বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য । কমিটির তরফ থেকে জানানো হয় সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা দেশে ভালো কাজ করছে সুতরাং সেটাই বজায় রাখা উচিত ।

ভারতীয় সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা ও ব্রিটেনের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার মধ্যে তুলনা :

ভারতের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা মূলত ব্রিটেনের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে গ্রহণ করা হলেও দুই দেশের শাসন ব্যবস্থার মধ্যে অল্প বিস্তার ফারাক লক্ষ্য করা যায় , সেগুলি নিয়ে নীচে আলোচনা করা হল -

১। ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত রয়েছে অন্যদিকে ব্রিটেনে রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায় । ভারতের রাষ্ট্র প্রধান বা রাষ্ট্রপতি একজন নির্বাচিত ব্যক্তি কিন্তু , ব্রিটেনের রাষ্ট্র প্রধান রাজবংশের সদস্য এবং বংশানুক্রমে তারা এই দায়িত্ব পেয়ে থাকেন ।
২। ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থা সংসদের সার্বভৌমত্বের তত্ত্বের ওপর নির্ভরশীল কিন্তু ভারতীয় সংসদীয় ব্যবস্থার নির্দিষ্ট সীমা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে ।
৩। ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্য হতে হবে কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী সংসদের যে কোনো কক্ষের সদস্য হলেই পদের যোগ্য ।
৪। ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রী হতে গেলে সংসদের সদস্য হতে হবে কিন্তু , ভারতের ক্ষেত্রে তিনি ছয় মাস সংসদের সদস্য ব্যতীত পদে বহাল থাকতে পারবেন ।
৫। ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ' ছায়া ক্যাবিনেট ' । এই ক্যাবিনেট বিরোধী দলের সদস্যদের দ্বারা গঠন করা হয়ে থাকে । এবং তারা এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প ক্যাবিনেট প্রস্তুত করে রাখে কিন্তু , ভারতে এইরকম কোনো ব্যবস্থাপনা নেই ।

সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শাসন ব্যবস্থার তুলনা :

১। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা দ্বৈত এক্সিকিউটিভ অর্থাৎ দেশের নাম সর্বস্ব প্রধান হিসাবে রাষ্ট্রপতি এবং মূল প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী থাকে । অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শাসন ব্যবস্থায় একজন এক্সিকিউটিভ থাকেন এবং তিনি হলেন রাষ্ট্রপতি এবং তিনি সমস্ত কিছু পরিচালনা করে থাকেন ।
২। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় সংখ্যা গরিষ্ঠ দল শাসন কার্য পরিচালনা করে থাকে । অন্যদিকে , রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি এবং আইনসভার সদস্যরা আলাদাভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকে ।
৩। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রীসভা সংসদের প্রতি দলগতভাবে দায়বদ্ধ থাকে , কিন্তু রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শাসন ব্যবস্থায় দায়বদ্ধতার কোনো বিষয় নেই ।
৪। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক একাত্মতা লক্ষ্য করা যায় কিন্তু , রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শাসন ব্যবস্থায় একাত্মতা লক্ষ্য করা নাও যেতে পারে ।
৫। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় এক্সিকিউটিভকে আইনসভার সদস্য হতে হয় অর্থাৎ দ্বৈত সদস্যপদ থাকতে হয় কিন্তু , রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শাসন ব্যবস্থায় এক্সিকিউটিভ ও আইনসভা আলাদা থাকে ।
৬। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব লক্ষ্য করা যায় অন্য দিকে , রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নেতৃত্ব প্রদান করে থাকে ।

কেন্দ্র ও রাজ্যের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য :

কেন্দ্রীয় সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় সংসদ উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে বিভাজিত থাকে । কিন্তু রাজ্যের ক্ষেত্রে অধিকাংশ রাজ্যের আইন সভাই একককক্ষ বিশিষ্ট । বর্তমানে কেবল ছয়টি রাজ্যে দুইকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে , এই রাজ্য গুলি হল - অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post