খনিজ মৌল ভূমিকা এবং অভাব জনিত লক্ষণ

খনিজ মৌল ভূমিকা এবং অভাব জনিত লক্ষণ

খনিজ মৌল (Mineral)

জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য খনিজ মৌলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য । চাহিদা অনুসারে এই মৌলগুলিকে দু - ভাগে ভাগ করা হয়েছে , যথা–
( a ) অতিমাত্রিক মৌল বা মেজর এলিমেন্ট ( Major elements ) : এইসব মৌলগুলি জীবের বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য অধিকমাত্রায় প্রয়োজন । যেমন — সোডিয়াম , পটাশিয়াম , ক্যালশিয়াম , ফসফরাস , সালফার , ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি ।
( b ) স্বল্পমাত্রিক মৌল বা মাইনর এলিমেন্ট বা ট্রেস এলিমেন্ট ( Minor or Trace elements ) : এইসব মৌলগুলি জীবদেহে খুব স্বল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয় । যেমন- লোহা , তামা , দস্তা , বোরন , ফ্লুওরিন , আয়োডিন , ম্যাঙ্গানিজ , কোবাল্ট ইত্যাদি ।

নীচে ছকের আকারে প্রধান মৌলগুলির মানবদেহে ভূমিকা উল্লেখ করা হল -

সোডিয়াম ( Na )

ভূমিকা :
( i ) হূৎপিন্ডের সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে ।
( ii ) স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে ।
( iii ) অভিস্রবণ চাপ নিয়ন্ত্রণ করে ।
( iv ) প্রাণীদেহে জলসাম্য বজায় রাখে ।
( v ) পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে ।
( vi ) রক্তের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে ।

অভাবজনিত লক্ষণ : এই মৌলের অভাবে স্নায়ুদৌর্বল্য , রক্ততারল্য লক্ষণ প্রকাশ পায় ।

পটাসিয়াম ( K )

ভূমিকা :
( i ) এই মৌল প্রাণীদেহে স্নায়ুকোশ গঠন করে ।
( ii ) পেশি সংকোচন প্রতিহত করে ।
( iii ) হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে ।
( iv ) CO2 পরিবহণে অংশ নেয় ।
( v ) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।

অভাবজনিত লক্ষণ : এই মৌলের অভাবে স্নায়ু ও পেশির কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়

ক্যালশিয়াম ( Ca )

ভূমিকা :
( i ) এই মৌল স্বাভাবিক বৃদ্ধি , দন্ত ও অস্থি গঠন করে ।
( ii ) পেশি সঞ্চালন ও পেশির উদ্দীপনা নিয়ন্ত্রণ করে ।
( iii ) হূৎপিণ্ডের কার্যকারিতা ও স্নায়ুর উত্তেজনা বজায় রাখে ।

অভাবজনিত লক্ষণ : এই মৌলের অভাবে শিশুদের রিকেট এবং বড়োদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয় ।

ফসফরাস ( P )

ভূমিকা :
( i ) এই মৌল অস্থি , দন্ত , পেশি , রক্ত গঠন করে ।
( ii ) পেশি সঞ্চালন ও পেশির উদ্দীপনা নিয়ন্ত্রণ করে ।
( iii ) কোশ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে ।
( iv ) উৎসেচক গঠন করে ।
( v ) আয়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে ।
( vi ) নিউক্লিও প্রোটিন ও ফসফোপ্রোটিন গঠন করে ।

অভাবজনিত লক্ষণ : এই খনিজের অভাবে অস্থি ও দন্তের অসম বুদ্ধি , শিশুদের রিকেট ও বড়োদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয় ।

সালফার ( S )

ভূমিকা :
( i ) এই মৌল প্রাণীদেহে জৈব জারণ , রক্ততঞ্চন প্রতিরোধ , ইনসুলিন ও হেপারিন তৈরি করে ।
( ii ) হিমোগ্লোবিন গঠনে অংশ নেয় ।
( iii ) নখ , চুল ও তরুণাস্থি গঠন করে ।
( iv ) দেহের বিষক্রিয়া নষ্ট করে ।

অভাবজনিত লক্ষণ : এই মৌলের অভাবে প্রোটিন ও ফ্যাটের বিপাক ক্রিয়া বিঘ্নিত হয় ।

ম্যাগনেশিয়াম ( Mg )

ভূমিকা :
( i ) এই মৌল উৎসেচকের সক্রিয়তা রক্ষা করে ।
( ii ) পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে ।

অভাবজনিত লক্ষণ : এই মৌলের অভাবে শারীরিক বিকলতা দেখা যায় ।

লৌহ ( Fe )

ভূমিকা :
( i ) এই মৌল হিমোগ্লোবিন গঠন , লোহিত রক্তকণিকার সৃষ্টি করে ।
( ii ) সাইটোক্রোম উৎসেচক গঠন করে ।
( iii ) কালাশ্বসনে অংশগ্রহণ করে এবং O2 পরিবহণে সাহায্য করে ।

অভাবজনিত লক্ষণ : লৌহের অভাবে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগ হয় ।

আয়োডিন ( I )

ভূমিকা : এই মৌলটি থাইরক্সিনের উপাদান গঠন করে ।

অভাবজনিত লক্ষণ : আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয় ।

ফ্লুওরিন ( F )

ভূমিকা : ফ্লুওরিন দাঁতের এনামেল গঠনে অংশ নেয় ।

অভাবজনিত লক্ষণ : ফ্লুওরিনের অভাবে দন্তক্ষয় হয় ।

তামা ( Cu )

ভূমিকা : লোহিত রক্তকণিকা ( RBC ) সৃষ্টিতে অংশ নেয় ।

অভাবজনিত লক্ষণ : তামার অভাবে রক্তাল্পতা রোগ হয় ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post