ভারতের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্প সংক্রান্ত তথ্যাবলী

ভারতের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্প সংক্রান্ত তথ্যাবলী

' architecture ' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ' tekton ' থেকে গৃহীত হয়েছে যার অর্থ হল নির্মাতা ( builder ) । সুতরাং মানুষ যখন বসবাসের জন্য আশ্রয়স্থল নির্মাণ শুরু করেছে তখন থেকেই স্থাপত্য শিল্পের বিকাশলাভ শুরু হয়েছে । অপরদিকে ' Sculpture ' শব্দটি প্রোটো ইন্দো - ইউরোপীয়ান শব্দ ' Kel ' থেকে গৃহীত যার অর্থ হল কাটা বা ছিঁড়ে ফেলা ( to cut or cleave ) । তাই বলা যায় ভাস্কর্য হল ছোট কারুশিল্প যা হস্ত নির্মিত কিংবা ছোট ছোট যন্ত্রের সাহায্যে গড়ে তোলা কাজ । ভারতের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পের ইতিহাস এক বিবর্তনের গল্প যা হরপ্পা সভ্যতা থেকে ব্রিটিশ শাসনকাল অবধি পরিব্যপ্ত । মহান সাম্রাজ্যের উত্থান , বিদেশি শাসকদের আক্রমণ , বিভিন্ন স্বকীয় শিল্পশৈলী এই শিল্প সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে ।

ভারতীয় স্থাপত্য শিল্পকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায় -

ভারতের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্প সংক্রান্ত তথ্যাবলী

প্রাচীন ভারত

( i ) হরপ্পা শিল্প :

হরপ্পা সভ্যতা বা সিন্ধু সভ্যতা প্রাচীনতম সভ্যতার এক প্রাণবন্ত শৈল্পিক উদাহরণ যা অসংখ্য স্থাপত্য ভাস্কর্য , সিলমোহর , মৃৎপাত্র প্রভৃতিতে সমৃদ্ধ ছিল । হরপ্পার শহরগুলিতে পোড়া ইটের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে ।

  • গ্রিড প্যাটার্ন : এই সভ্যতার শহরগুলিতে গ্রিড প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায় । রাস্তাঘাটগুলো পূর্ব ও পশ্চিমে বিস্তৃত এবং রাস্তার দু'পাশে সুসংগঠিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা দেখা গেছে ।
  • নগরী দেওয়াল : প্রতিটি নগরী দেওয়াল দ্বারা বেষ্টিত ছিল ।
  • আবাসিক ভবন : আবাসিক ভবনগুলি যথেষ্ট পরিষেবাযোগ্য যা খোলা বারান্দা যুক্ত এবং যেগুলি তৈরির মুখ্য উপাদান পোড়া ইট ।
  • আভ্যন্তরীণ কূপ : প্রায় সমস্ত বাড়িগুলির ভিতর নিজস্ব কুপ ও স্নানঘর ছিল ।
  • নিষ্কাশনী ব্যবস্থা : মহেঞ্জোদাড়োর নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল খুবই চিত্তাকর্ষক , যা নগরজীবনকে নির্দেশ করে ।
  • শস্যাগার : মহেঞ্জোদাড়োতে একটি বৃহৎ শস্যাগার আবিষ্কৃত হয়েছে , যার পরিমাপ হল দৈর্ঘ্য ১৫০ ফিট , প্রস্থ ৭৫ ফিট এবং উচ্চতা ১৫ ফিট ।
  • স্নানাগার : মহেঞ্জোদাড়োতে ১৭৯ ফিট দৈর্ঘ্য , ১০৭ ফিট প্রস্থ বিশিষ্ট বৃহৎ স্নানাগার আবিষ্কৃত হয়েছে ।
  • সীলমোহর : প্রত্নতাত্ত্বিকগণ অসংখ্য বিভিন্ন ধরনের সীলমোহর আবিষ্কার করেছেন যার অধিকাংশগুলো বর্গাকার । কিছু ত্রিকোণাকার , কিছু গোলাকার আবার কিছু আয়তক্ষেত্রা-কার । সীলমোহরগুলিতে পিক্টোগ্রাফিক স্ক্রিপ্ট লক্ষ্য করা গেছে ।

( ii ) মৌর্য শিল্প ও স্থাপত্য :

সিন্ধু সভ্যতা পরবর্তী খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-১৮৫ পর্যন্ত ভারতীয় স্থাপত্য ক্ষেত্রের কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে যার মুখ্য উপাদান কাঠ , পুনর্ব্যবহৃত ইট । ঐ সময় রক - কাট , স্থাপত্য লক্ষ্য করা যায় ।

  • প্রাসাদ : মৌর্যযুগে প্রাসাদে সোনার লতানো খচিত সোনার স্তম্ভ এবং রৌপ্য পাখি লক্ষ্য করা যায় । সব শহরগুলো উঁচু প্রাচীর বেষ্টিত , যুদ্ধক্ষেত্র , জলের ডোবা ও গাছপালা সমৃদ্ধ । ভবনগুলির অন্যতম মুখ্য উপাদান হল কাঠ ।
  • স্তম্ভ : অশোকের শাসনকালে রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে স্তম্ভ শিলালিপি লক্ষ্য করা যায় যা যুদ্ধ জয়ের স্মরণে নির্মিত হত । স্তম্ভগুলির গড় উচ্চতা হল ৪০ ফিট এবং সেগুলি তৈরির মুখ্য উপাদান হল চুনা ও বেলেপাথর ।
  • স্তূপ : মৌর্য যুগে প্রধানত অশোকের সময়কালে অসংখ্য স্তূপ নির্মিত হয়েছিল । গৌতম বুদ্ধের কৃতিত্ব উদযাপনের জন্য অশোক স্তূপ নির্মিত হয়েছিল । স্তূপ হল বাবরের উপর নির্মিত ঢিপি যা বৈদিক যুগে প্রচলিত ছিল । স্তূপের কয়েকটি অংশ হল তোরণ , যষ্ঠি , ছত্র , হার্মিকা প্রভৃতি
  • গুহা : এই সময়কালে রক - কাট গুহা স্থাপত্যের নিদর্শন পাওয়া যায় । ওই সময় গুহাগুলো বিহার এবং বৌদ্ধ ও জৈন সন্ন্যাসীর বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত । গুহাগুলো অত্যন্ত পালিশ করা এবং আলংকারিক প্রবেশপথ বিশিষ্ট ।
  • মৃৎপাত্র : মৌর্য যুগের মৃৎশিল্পকে সাধারণত ' নর্দার্ন ব্ল্যাক পোলিশ ওয়ার ' হিসেবে বিবেচনা করা হয় । মৃৎপাত্রগুলো সাধারণত কালো রঙের দ্বারা চিত্রিত করা হত ।
  • ভাস্কর্য : ভাস্কর্যগুলো মূলত স্তূপ , তোরণ , মেধী ও নানান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অলংকরণ করার জন্য ব্যবহৃত হত ।

( iii ) মৌর্য পরবর্তী শিল্প :

খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ছোট রাজ বংশের জন্ম হয়েছিল । শুঙ্গ , কান্ব কুষাণ , শক সাতবাহন , বাখটক প্রভৃতি রাজবংশ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ । এই সময় রক - কাট গুহা , স্তূপের পাশাপাশি তিনটি বিশিষ্ট স্কুল ভাস্কর্য গড়ে উঠেছিল সেগুলি হল , গান্ধার , মথুরা এবং অমরাবতী স্কুল শিল্প ।

নীচে তিন শিল্পরীতির তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হল -

গান্ধার শিল্প মথুরা শিল্প অমরাবতী শিল্প
হেলেনস্টিক এবং গ্রিক শিল্প রীতির গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায় প্রকৃতিতে সহজাত প্রকৃতিতে সহজাত
ধূসর বেলে পাথর ব্যবহৃত হয় দাগযুক্ত লাল বেলে পাথর ব্যবহৃত হয় সাদা মার্বেল ব্যবহৃত হয়
প্রধানত বৌদ্ধদের চিত্র পরিলক্ষিত হয় বৌদ্ধ , জৈন ও হিন্দুদের চিত্র পরিলক্ষিত হয় প্রধানত বৌদ্ধধর্মের চিত্র পরিলক্ষিত হয়
এই রীতির পৃষ্ঠপোষক কুষাণরা এই রীতির পৃষ্ঠপোষক কুষাণরা এই রীতির পৃষ্ঠপোষক সাতবাহনরা
মূলত উত্তর - পশ্চিম ভারতে পাওয়া যায় উত্তর ভারতে ( মূলত মথুরাতে ) দেখা যায় দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণা , গোদাবরী বদ্বীপ অঞ্চলে দেখা যায়
আধ্যাত্মিক বুদ্ধের চিত্র যাঁর মাথার চুল স্টাইলিশ সদাহাস্যময় বুদ্ধ কিন্তু আধ্যাত্মিক নয় প্রধানত জাতকের গল্প চিত্রিত
বসা এবং দাঁড়ানো উভয় চিত্র পাওয়া গেছে প্রাপ্ত চিত্রগুলোর অধিকাংশ বসা অবস্থার চিত্র --

( iv ) গুপ্ত যুগের শিল্প :

গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়কাল ভারতীয় স্থাপত্যের ' স্বর্ণযুগ ' হিসেবে সমাদৃত । পূর্ববর্তী গুপ্ত শাসকরা ছিলেন বৌদ্ধ এবং পরবর্তী গুপ্ত শাসকরা সেই ঐতিহ্য মেনে হিন্দু শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা বৌদ্ধ স্থাপত্য ও মন্দির স্থাপত্য বজায় রেখেছে । এই সময়কালে মন্দির স্থাপত্য চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল । এই যুগে তিনজন প্রধান দেবতার পূজা করা হত । যথা উত্তর ও কেন্দ্রীয় ভারতে ' বিষ্ণু ' , দক্ষিণ ভারতে ' শিব ' এবং পূর্ব ভারতে ' শক্তি’র উপাসনা করা হত ।

  • গুপ্তশৈলীর মন্দিরটি মথুরা স্কুলের স্থাপত্যরীতির আদলে তৈরি করা হয়েছিল ।
  • গুপ্তযুগের মন্দির স্থাপত্যের প্রধান শৈলী নাগরাশৈলী ।
  • গুপ্ত শৈলীতে নির্মিত সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপত্য হল গুহা ।
    অজন্তা গুহা : এটি মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে অবস্থিত । গুহাটি খ্রিস্ট পূর্ব ২০০-৬৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গড়ে উঠেছে ও উন্নতি লাভ করেছে ।
    ইলোরা গুহা : এটি অজন্তা গুহা থেকে ১০০ কিমি দূরে অবস্থিত । এখানে মোট ৩৪ টি গুহা রয়েছে । যার মধ্যে ১৭ টি ব্রাহ্মণ্যবাদীদের , ১২ টি বৌদ্ধদের এবং ৫ টি জৈনদের ।
    বাঘ গুহা : এটি মধ্য প্রদেশের বাঘ নদীর তীরে অবস্থিত । এটি খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের সময়কালে গড়ে ওঠা নয়টি বৌদ্ধ গুহা । গঠনশৈলীর দিক থেকে এটি অজন্তা গুহার অনুরূপ ।
    জুনাগড় গুহা : এটি গুজরাটের জুনাগড় জেলায় অবস্থিত । এর তিনটি ভিন্ন সাইট পাওয়া গেছে সেগুলি হল- ( ১ ) খাপরা কোদিয়া , ( ২ ) বাবা পেয়ারি ( ৩ ) উপরকোট ( উচ্চতা ৩০-৫০ ফিট ) ।
  • এই শিল্পশৈলীতে নির্মিত অন্যান্য গুহাগুলি হল নাসিক গুহা , মান্দাপেশ্বর গুহা , উদয়গিরি গুহা প্রভৃতি ।
  • স্তূপ : গুপ্ত যুগের অবনতি নির্দেশ করে ঐ সময়ে নির্মিত স্তূপগুলো । উদাহরণ : ধামেক স্তূপ ( সারনাথ ) ।

( v ) মন্দির স্থাপত্য শৈলী :

নীচে ক্লিক করে ভারতের মন্দির স্থাপত্য শৈল সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে পড়ুন -


মধ্যযুগীয় ভারত

৭১২ খ্রিস্টাব্দে আরবদের সিন্ধু জয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পশ্চিম সীমান্তে ইসলামি শাসকদের আগমন শুরু হয়েছিল । খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতকে দিল্লির সিংহাসনে ইসলামি শাসক অধিষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা ভারতীয় ইতিহাসের মধ্যযুগকে চিহ্নিত করে । এর পরবর্তী বছরগুলিতে ভারতীয় স্থাপত্য কলার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে । নতুন নতুন শাসকদের রুচি অনুযায়ী স্থাপত্যক্ষেত্রে ক্যালিগ্রাফি , অলংকরণ , ইনলে কাজের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় । সেইজন্য মধ্যযুগীয় ভারতের স্থাপত্য কলা ইন্দো - ইসলামিক স্থাপত্য কলা বা ইন্দোসারাসেনিক স্থাপত্য নামেও পরিচিত । এই শিল্পকলার বৈশিষ্ট্যগুলো হল-

  1. এ সময় খিলান ও গম্বুজের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় , এটি ‘ আর্কুয়েড শৈলী ’ নামে পরিচিত ।
  2. ইসলামি শাসকগণ মসজিদ এবং সমাধি ক্ষেত্রের চারপাশে মিনার ব্যবহারের প্রচলন করেন ।
  3. নির্মাণ কাজে সিমেন্টিং এজেন্ট হিসেবে ‘ মর্টার ’ ব্যবহার করা হয়েছিল ।
  4. ইন্দো - ইসলামিক স্থাপত্যে মানুষ এবং প্রাণীর ব্যবহার এড়ানো হয়েছে ।
  5. সাজ - সজ্জার জন্য আরবীয় নকশা ব্যবহৃত হত ।
  6. এই সময়ের স্থাপত্য শৈলীতে সাজ - সজ্জার উপায় হিসেবে ' ক্যালিগ্রাফি ' ব্যবহার করা হয়েছে ।
  7. স্থাপত্যরীতিগুলি জ্যামিতিক ও আলংকারিক নীতি অনুসৃত হয়েছিল ।
  8. যেকোন স্থাপত্য নির্মাণ প্রাঙ্গনে জলের ব্যবহার লক্ষ্যণীয় । জল প্রাথমিকভাবে ৩ টি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত যথা- ধর্মীয় উদ্দেশ্য , প্রাঙ্গন শীতল রাখা এবং আলংকারিক উদ্দেশ্যে । উদাহরণ - চারবাগ রীতি ।
  9. ভবনগুলির নির্মাণক্ষেত্রে সংক্ষিপ্তকরণ কৌশল অনুসরণ করা হত ।

সুলতানি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যশৈলী :

দিল্লির সুলতানি আমলের স্থাপত্য শিল্পকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা । যেতে পারে , যথা- ( i ) সাম্রাজ্য সংক্রান্ত রীতি ( ii ) প্রাদেশিক রীতি ।

( i ) সাম্রাজ্য সংক্রান্ত রীতি : এই রীতি ১১৯১-১৫৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত | বিভিন্ন রাজবংশের অধীনে অনুসৃত হয়েছিল । এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিদর্শন হল কুতুবমিনার , আড়াই - দিন - কা ঝোপড়া , আলাই দরোয়াজা , সিরি ফোর্ট , তুঘলকাবাদ নগরী , লোদি গার্ডেনস , আগ্রা শহর প্রভৃতি ।

( ii ) প্রাদেশিক রীতি : এই সময়কালে ইন্দো - ইসলামিক শৈলী স্থানীয় স্থাপত্য শৈলীকে প্রভাবিত করেছিল । এই রীতির কয়েকটি উল্লেখ্য নিদর্শন হল- কাদাম রাসুল মসজিদ , আদিনা মসজিদ , রানি রূপমনি প্যাভিলিয়ন , জাহাজ মহল , আসরফি মহল , গোল গম্বুজ , আদিল শাহের সমাধি প্রভৃতি ।

মুঘল আমলে বিভিন্ন স্থাপত্য শৈলী :

মুঘলরা শিল্প ও স্থাপত্যের মহান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন । তাঁদের অধীন স্থাপত্যরীতি পুনরায় গুরুত্ব ফিরে পেয়েছিল । এই সময়ের কয়েকটি উল্লেখ্য রীতির উদাহরণ হল -

স্থাপত্য রীতি তথ্যাবলী
আগ্রা দুর্গ এটি আকবর নির্মাণকার্য শুরু করেছিলেন তবে শাহজাহানের আমলে অধিকাংশ ভবনগুলির নির্মাণকাজ শেষ হয় ।
মতি মসজিদ শাহজাহান তৈরি করেন
দেওয়ান - ই - খাস শাহজাহান তৈরি করেন
দেওয়ান - ই - আম শাহজাহান তৈরি করেন
ফতেপুর সিক্রি আকবর এটি তৈরি করেন । এটি ইন্দো ইসলামিক রীতিতে তৈরি হয়েছে ।
বুলন্দ দারোয়াজা ১৫৭৬ খ্রিঃ আকবরের গুজরাট জয়ের স্মৃতি হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছিল । এটি পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবেশদ্বার ।
সেলিম চিস্তির সমাধি এটি ১৫৮১ খ্রিঃ হয়েছিল । এটি আরবীয় রীতিতে তৈরি হয়েছিল ।
পাঁচমহল এটি একটি পাঁচতলার কাঠামো বিশিষ্ট ।
ইবাদতখানা আকবর ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতেন ।
তাজমহল তাজমহল মুঘল আমলের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন । এটি আর্জুমভানু বেগমের বা মমতাজের স্মৃতিতে শাহজাহানের আমলে নির্মিত হয়েছিল ।
রেড ফোর্ট , জামা মসজিদ , শালিমার বাগ এগুলি শাহজাহানের আমলে নির্মিত হয়েছিল ।

আধুনিক ভারত

ব্রিটিশরা ভারতে আসার সঙ্গে সঙ্গে গোথিক শিল্পরীতি নিয়ে এসেছিল । এটি ভারতীয় স্থাপত্যের সঙ্গে মিশে ইন্দো - গোথিক শিল্পরীতি তৈরি করেছিল । ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের পরে নিওরোমান শিল্পরীতির আবির্ভাব ঘটেছিল ।

1. ইন্দো গোথিক শিল্পরীতি :

এটি ভিক্টোরিয়ান রীতি নামেও অধিক পরিচিত । এটি একটি অনন্য ভারতীয় শিল্পরীতি যা পার্সিয়ান এবং গোথিক শৈলীর মিশ্রণে তৈরি স্থাপত্য । এই রীতির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল –

  1. এর নির্মাণক্ষেত্র অনেকখানি বড় ।
  2. দেওয়ালগুলো ইন্দো - ইসলামিকদের তুলনায় পাতলা ছিল ।
  3. খিলানগুলো আঁকাবাঁকা ধরনের ।
  4. এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হল বড় জানালার ব্যবহার ।
  5. গির্জাগুলিতে ক্রুশবিদ্ধ স্থল পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যায় ।
  6. এটি উন্নত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতি মেনে নির্মিত হত এবং এতে লোহা , ইস্পাত ও কংক্রিটের ব্যবহার শুরু হয় । এই রীতির উদাহরণ হল- কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং মুম্বাইয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া ।

2 . নিও রোমান শিল্পরীতি :

১৯১১ খ্রিস্টাব্দের পরে নিও রোমান শিল্পরীতি লক্ষ্য করা গেছে । এই রীতির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল -

  1. নির্মাণকার্য বেনামি এবং কোন বিশেষ আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য নেই ।
  2. সরলতা , আধুনিকতা এবং উপযোগিতা লক্ষ্য করা যায় কারুকার্যের মধ্যে ।
  3. ভবনগুলি সাধারণত গোলাকৃতি প্রকৃতির ।
  4. পাশ্চাত্য স্থাপত্য নকশা লক্ষ্য করা যায় ।
  5. উল্টানো গম্বুজের ধারণাটি ভারতের সুপ্রিমকোর্ট এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের শীর্ষে লক্ষ্য করা যায় ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post