বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অতিমারী

বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অতিমারী

অতিমারীর নাম সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জাস্টিনিয়ান প্লেগ - এটি বিশ্বের ৩০ মিলিয়ন থেকে ৫০ মিলিয়ন মানুষের জীবন কাড়তে সক্ষম হয়েছিল । এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াটি হল Yersinia Pestis ।
ব্ল্যাক ডেথ ১৩৪৭-১৩৫১ এটি সম্পূর্ণ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং গোটা বিশ্বে ২৫ মিলিয়ন মানুষ এই রোগের প্রাণ হারিয়েছিল । এরজন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াটি হল Yersinia Pestis- এটি ইঁদুরের কামড়ের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে ।
স্মলপক্স (গুটি বসন্ত) ১৫-১৭ শতক এই রোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ % নাগরিককে আক্রান্ত করেছিল এবং ২০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল । এই অতিমারীর কারণে ইউরোপীয়রা ফাঁকা স্থানে কলোনি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল । ভ্যারিয়োলা ভাইরাস এই রোগ সংক্রমণের জন্য দায়ী ।
কলেরা ১৮১৭-১৮২০ ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে জল ও খাদ্যের মধ্য দিয়ে এই রোগ মানুষের দেহে সংক্রমিত হত । প্রথম এই অতিমারী ছড়িয়েছিল অবিভক্ত ভারতের যশোরে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে এই অতিমারীকে ‘ The forgotten Pandemic ' আখ্যা প্রদান করা হয়েছে ।
স্প্যানিশ ফ্লু (H1N1) ১৯১৮-১৯১৯ H1N1 ভাইরাসের কারণে মানুষর দেহে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছিল । বিংশ শতাব্দীতে এই ভাইরাস তৎকালীন জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৫০০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল এবং ৫০ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল ।
হং কং ফ্লু (H3N2) ১৯৬৮-১৯৭০ ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাসের H3N2 স্ট্রেনের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল । এই স্মৃতিমারী এশিয়ান ফ্লু নামেও পরিচিত । এই অতিমারী ব্যতিক্রমী সংক্রামক নামে পরিচিত ।
এইচআইভি / এইডস ১৯৮১-বর্তমান হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা HIV সংক্রমণের ফলে মানুষ এই অতিমারী দ্বারা আক্রান্ত হয় । এটি একধরনের আর এন এ ভাইরাস এবং রক্ত ও সিয়েমেন - এর মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় ।
সার্স ২০০২-২০০৩ সেবেয়ার অ্যাকুউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্স ভাইরাসের কারণে মানুষরা এই অতিমারীতে আক্রান্ত হয়েছিল । ২০০৩ - এ চীনের গুয়াংঝাং প্রদেশ থেকে এই ভাইরাস বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছিল । ৮০০০ - এর মতো মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল এবং ৭৭৪ জন মানুষ তাদের প্রাণ হারান ।
সোয়াইন ফ্লু ২০০৯-২০১০ এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নবতম সংযোজন । HINI ভাইরাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে এই অতিমারী হাঁচি , কাশির মাধ্যমে সংক্রমিত হত । ১,৫১,৭০০ থেকে ৫,৭৫,৪০০ - এর মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন ।
ইবোলা ২০১৪-২০১৬ ২০১৪ সালে আফ্রিকা মহাদেশের গিনির একটি ছোট গ্রাম থেকে এই অতিমারী ছড়িয়ে পড়েছিল । এই অতিমারী জন্য দায়ী Filoviridae গোত্রভুক্ত ইবোলা ভাইরাস । গিনি , লাইব্রেরিয়া এবং সিয়েরা লিয়ন প্রভৃতি দেশে ২৮,৬০০ জন নাগরিক এবং ১১,৩২৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন ।
করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ ২০১৯-বর্তমান নতুনভাবে আবিষ্কৃত হওয়া SAR Cove2 ভাইরাসের কারণে এই অতিমারী দ্বারা মানুষ এখনও আক্রান্ত হয়ে চলেছেন । বিশ্বের প্রতিটি দেশ এই ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ।





Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post