বাসিল III নর্মের আন্তর্জাতিক কমিটির গুরুত্ব

বাসিল III নর্মের আন্তর্জাতিক কমিটির গুরুত্ব

ব্যাঙ্কিং রেগুলেশনের মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যে 1974 সালে গঠিত হয়েছিল ব্যাঙ্কিং সুপারভিশন বিষয়ক বাসিল আন্তর্জাতিক কমিটি । বিশ্বের 27 টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই কমিটি । ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টের কার্যালয় হল এটির সদর দপ্তর যা সুইৎজারল্যান্ডের বাসিল শহরে অবস্থিত । ব্যুরো অফ ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্ট আর্থিক স্থিরতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ব্যাঙ্কিং রেগুলেশনের মান নির্ধারণ করে । ক্যাপিটাল রিস্ক , মার্কেট রিস্ক ও অপারেশনাল রিস্ক বিষয়ক কিছু নীতি নির্ধারণ করেছে এই কমিটি যা বাসিল একর্ড নামে পরিচিত । যে কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতির মোকাবিলা করার জন্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে যাতে পর্যাপ্ত মূলধন থাকে , সেটাই নিশ্চিত করে এই বাসিল একর্ড ।

বাসিল একর্ড - র অংশ :

( ১ ) টায়ার I ক্যাপিটাল : অর্থনৈতিক সংকটের মুখে এই প্রকার মূলধন ব্যাঙ্কের ক্ষতিপূরণ করতে প্রয়োজন হয় যার ফলে ব্যাঙ্কটি দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারে ।
( ২ ) টায়ার II ক্যাপিটাল : এই প্রকার মূলধন কোনো ব্যাঙ্কের কার্যকলাপ বন্ধ করার সময়ে ক্ষতিপূরণের কাজে লাগে ।
( ৩ ) টায়ার III ক্যাপিটাল : মার্কেট রিস্ক , কমোডিটি রিস্ক ও ফরেন কারেন্সি রিস্ক - র মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক এই টারশিয়ারি ক্যাপিটাল কাজে লাগায় ।
( 4 ) AT 1 বন্ড : এটি অ্যাডিশনাল টায়ার 1 বন্ড নামে পরিচিত । এটি একপ্রকার অসুরক্ষিত পার্পেচুয়াল বন্ড যা বাসিল III রিকোয়ারমেন্ট মেটাতে নিজেদের ক্যাপিটাল বেস বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যাঙ্কগুলি এই প্রকার বন্ড ইস্যু করে ।
বাসিল III নর্ম প্রকাশিত হয়েছিল 2010 সালে । 2008 সালের অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে এই নিয়মের সূচনা হয় । তবে , বর্তমানে ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা বাসিল II নর্ম অনুসরণ করে ।

উদ্দেশ্য :

ব্যাঙ্কিং কার্যকলাপ তথা ট্রেডিং কার্যকলাপকে আরো অধিকমাত্রায় মূলধন ভিত্তিক ( ক্যাপিটাল ইনটেনসিভ ) করাই বাসিল III নর্মের প্রধান লক্ষ্য । একটি সুসংহত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে এই নর্ম চারটি মূল প্যারামিটারের ওপর আলোকপাত করে , যথা - ( ১ ) ক্যাপিটাল ( ২ ) লেভারেজ ( ৩ ) ফান্ডিং ( ৪ ) লিকুইডিটি ।

বাসিল III অনুবর্তী বন্ড :

এটি ব্যাঙ্কের টায়ার II ক্যাপিটাল হওয়ার উপযোগী ; এটির ফেস ভ্যালু 10 লক্ষ টাকা , এক্ষেত্রে 5 বছর পরে একটি কল অপশন থাকে ।

বাসিল III নর্মের বৈশিষ্ট্য :

( ১ ) রিভাইসড মিনিমাম ইকুইটি ও টায়ার । ক্যাপিটাল রিকোয়ারমেন্ট : বাসিল ইইই একর্ড প্রতিটি ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ক্যাপিটাল নর্মের গুরুত্ব রিকোয়ারমেন্টের মাত্রা ইক্যুইটির 2 % থেকে বাড়িয়ে 4.5 % ধার্য করা হয়েছে , ব্যাঙ্কের রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটের শতাংশ হিসেবে এটি প্রতিটি ব্যাঙ্ককে মেন্টেন করতে হয় । এছাড়াও 2.5 % -র একটি বাফার ক্যাপিটাল রিকোয়ারমেন্টও ধার্য করা হয়েছে যার ফলে টোটাল ইকুইটির মাত্রা হয়েছে 7 % ।
( ২ ) ক্যাপিটাল কোয়ালিটি
( ৩ ) লেভারেজ রেশিও
( ৪ ) লিকুইডিটি রেশিও
( ৫ ) কাউন্টারসাইক্লিক্যাল বাফার
( ৬ ) ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার

বাসিল III নর্মের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য রেশিও :

( ১ ) CAPITAL ADEQUACY RATIO : টায়ার I ক্যাপিটাল + টায়ার II ক্যাপিটাল / রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট
( ২ ) লেভারেজ রেশিও : টায়ার I ক্যাপিটাল / টোটাল এক্সপোজার > = 3 %
( ৩ ) লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও : হাই কোয়ালিটি লিকুইড অ্যাসেট / টোটাল নেট ক্যাশ আউট ফ্লো ওভার 30 ডেজ > = 100 % । এটির সূচনা হয় 2015 সালে , প্রাথমিকভাবে রিকোয়ারমেন্ট ছিল 60 % যা প্রতি বছর 10 % করে বাড়ার কথা ।
( ৪ ) নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও : অ্যাভেলেবল স্টেবল ফান্ডিং / রিকোয়ার্ড স্টেবল ফান্ডিং > = 100 %

ভারতে বাসিল নর্মের প্রয়োগ :

( ১ ) ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলোকে ন্যূনতম ক্যাপিটাল হিসেবে তাদের রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটের 11.5 % নিজেদের কাছে সঞ্চিত রাখতে হবে ।
( ২ ) ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দ্বারা নির্ধারিত ন্যূনতম CAR- র মাত্রা 9 % , যেখানে টায়ার I ক্যাপিটালের জন্য 7 % ও টায়ার II ক্যাপিটালের জন্য 2 % প্রয়োজন । যেকোনো ব্যাঙ্কের আর্থিক সংস্থান বিচার করে CAR ; অর্থাৎ যেকোনো অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যাঙ্ক কতটা প্রস্তুত তা CAR দ্বারা বিচার্য হয় ।
( ৩ ) CAR- র আন্তর্জাতিক মান ৪ % যা ভারতীয় মানের তুলনায় কম ।

বাসিল I , বাসিল II ও বাসিল III- এর পার্থক্য :

বাসিল I- র সূচনা হয়েছিল 1988 সালে , ভারতে কার্যকরী হয় 1992 সালে । এটির অ্যাপ্লিকেশন খুবই সরলীকৃত ছিল যা শুধুমাত্র ' ক্রেডিট রিস্ক ' - এর ওপরেই জোর দিয়েছিল ।
বাসিল II- র সূচনা হয়েছিল 2004 সালে , ভারতে কার্যকরী হয় 2009 সালে । ক্যাপিটাল রেগুলেশনের আওতায় লিকুইডিটি রিস্ককে ধার্য করেনি এই একর্ড । অতিরিক্ত ক্যাপিটাল রিকোয়ারমেন্টের কথাও বলেনি এই একর্ড ।
2010 সালে সূচনা হলেও বাসিল III কার্যকরী হয়েছিল 2013-2019 এর মধ্যে । বাসিল II এর খুঁতগুলোকেই তুলে ধরেছে বাসিল III একর্ড , এবং সেগুলিকে সংশোধন করে এই একর্ড - র মূল উদ্দেশ্য ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post