শিলা ও ভূত্বকের ধারণা

ভূ - ত্বক কাকে বলে ?

পৃথিবীর বহির্ভাগের কঠিন আবরণকে ভূ - ত্বক বলে । জন্মকালে পৃথিবী-ও সূর্যের মত একটি জ্বলন্ত বাষ্পপিণ্ড ছিল । কোটি কোটি বছর ধরে তাপ বিকিরণ করে ঠাণ্ডা হয়ে পৃথিবী বর্তমানের কঠিন অবস্থায় এসেছে । উত্তপ্ত বাষ্পপিণ্ড থেকে ধীরে ধীরে তরল অবস্থায় এবং তরল অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে জমাট বাঁধার সময় পৃথিবী - পৃষ্ঠের ওপর সরের মত যে শক্ত আবরণ সৃষ্টি হয় তাকেই ভূ - ত্বক ( Earth Crust ) বলে

জন্মকালে পৃথিবী সূর্যের মতো একটি বাষ্পীয় পিণ্ড ছিল । কোটি কোটি বছর ধরে তাপ বিকিরণ করে ঠাণ্ডা হয়ে পৃথিবী বর্তমান কঠিন অবস্থায় উপনীত হয়েছে । বাষ্প থেকে তরল এবং তরল থেকে কঠিন অবস্থায় আসতে পৃথিবীর উপাদানগুলির মধ্যে স্থান বিনিময় হয়

শিলা ও ভূত্বকের ধারণা
পৃথিবীর বিভিন্ন উপাদানের স্তরবিন্যাস


অপেক্ষাকৃত ভারী উপাদানগুলি , যথা : লোহা , নিকেল প্রভৃতি তরল পিণ্ডের কেন্দ্রে ডুবে গিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল গঠন করল । এই মণ্ডল পৃথিবীর কেন্দ্রের চতুর্দিকে প্রায় ৩,৪৭৫ কিলোমিটার বিস্তৃত । এই মণ্ডল জ্বলের তুলনায় প্রায় ১০/১২ গুণ ভারী । কেন্দ্রমণ্ডল প্রধানত লোহার দ্বারা গঠিত । এছাড়া লোহার সঙ্গে নিকেল ও অন্যান্য ধাতুও কেন্দ্রমণ্ডল গঠন করেছে ।

কেন্দ্রমণ্ডলের চতুর্দিকে ২,৯৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত অঞ্চলে অপেক্ষাকৃত লঘু লোহামিশ্রিত শিলা ঘনীভূত হয়ে গুরুমণ্ডল বা ম্যান্টল গঠন করল । এই মণ্ডলের উপাদানগুলো জলের তুলনায় ৫ গুণ ভারী । এই হগুলের উপাদানগুলো হল : নিকেল , লোহা , সিলিকা , ম্যাগনেসিয়াম , ক্রোমিয়াম প্রভৃতি ।

সকলের ওপরের অংশ সবশেষে কঠিন হয়ে শিলামগুল গঠন করল । ভূ - ত্বক এই শিলামগুলেরই অংশ ।

ভূ - ত্বক পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে শিলামণ্ডলের অংশ বিশেষ । ভূ - ত্বক প্রধানত আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত । স্থানবিশেষে ভূ - ত্বক ৩ কিলোমিটার ( সমুদ্রের তলদেশ ) থেকে ৪০ কিলোমিটার ( মহাদেশের তলদেশ ) পুরু । তবে গড়ে এই স্তরটিকে ১৭ কিলোমিটার গভীর ধরা হয় । সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়ম হল এই স্তরের প্রধান উপাদান ।

ভূ - ত্বকের প্রধান দুটি স্তর :

ভূ - ত্বকের ২ টি প্রধান স্তর রয়েছে , যেমন : ( ১ ) সিয়াল ও ( ২ ) সিমা

( ১ ) সিয়াল : ভূ - ত্বকের ওপরের অংশের বিচ্ছিন্ন হাল্কা শিলা স্তরকে সিয়াল বলে । সিলিকন ( Si ) বা বালি এবং অ্যালুমিনিয়াম ( Al ) এই শিলাস্তরের প্রধান উপাদান , তাই একে সিয়াল ( Sial ) বলে । এই স্তরটি অপেক্ষাকৃত হাল্কা শিলা দিয়ে গঠিত , যার প্রধান উপাদান হল গ্রানাইট ৷ মহাদেশগুলো প্রধানত এই শিলা স্তর দিয়ে গঠিত বলে এই শিলাস্তরকে মহাদেশীয় শিলা স্তরবলে ।

( ২ ) সিমা : প্রধানত অপেক্ষাকৃত ভারী ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত এই শিলাস্তরটি মহাদেশীয় শিলা স্তরের নীচে সমুদ্রতল বরাবর অবস্থিত । সিলিকন ( Si ) বা বালি এবং ম্যাগনেসিয়াম ( Mg ) এই শিলাস্তরের প্রধান উপাদান হওয়ায় , এই শিলাস্তরটিকে সিমা ( Sima ) বলে ।

শিলা কাকে বলে ?

পৃথিবীর বহির্ভাগের কঠিন আবরণ বা ভূ - ত্বক যে সব উপাদানে গঠিত তাদের সাধারণভাবে শিলা বলে । শিলা বলতে শুধু কঠিন পাথরকে বোঝায় না — ব্যাপক অর্থে শিলা বলতে কাঁকর , বালি , কাদা প্রভৃতিকেও বোঝায় । শিলার মধ্যে লবণ , লোহা , সোনা ইত্যাদি বহু খনিজ পদার্থ থাকে । শিলা মূলত যৌগিক পদার্থ । পৃথিবী যখন তপ্ত অবস্থায় ছিল তখন পৃথিবীর উপাদানের মৌলিক পদার্থগুলো আলাদা ছিল । পৃথিবী ধীরে ধীরে শীতল হওয়ায় এই সব মৌলিক পদার্থগুলো মিলে মিশে দানা বেঁধে নানারকম যৌগিক পদার্থ তৈরী করল — এই সব দানাকে কেলাস বা কৃস্টাল বলে । এই সব দানা চাপ বেঁধে শিলা গঠন করেছে । অবশ্য একটিমাত্র খনিজ পদার্থ দিয়েও কোন কোন শিলা গঠিত হতে পারে , যেমন : খনিজ লবণ । খনিজ পদার্থ ছাড়াও শিলার মধ্যে জৈব উপাদান থাকতে পারে ।

শিলার শ্রেণীবিভাগ :

উৎপত্তি , বয়স , আকৃতি এবং গঠনপদ্ধতি অনুসারে শিলাকে প্রধানত তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয় , যথা : ( ১ ) আগ্নেয় শিলা , ( ২ ) পাললিক শিলা এবং ( ৩ ) রূপান্তরিত শিলা

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post