বায়োটেকনোলজি (Biotechnology)

বায়োটেকনোলজি

জীববিদ্যার যে শাখায় জীববিদ্যা এবং প্রযুক্তিকে একত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে , তাকে বায়োটেকনোলজি বলা হয় । ১৯১৯ সালে হাঙ্গেরির ইঞ্জিনিয়ার ক্যারোলি এরেকি বায়োটেকনোলজি কথাটি প্রথম উল্লেখ করেন ।

বিভিন্ন সংস্থার মতে বায়োটেকনোলজির সংজ্ঞা :

● ইউএস ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন- জৈবিক এজেন্ট যেমন অণুজীব বা কোষীয় উপাদানগুলির মাধ্যমে উপকারী ব্যবহারের জন্য জৈব প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় ।

● ব্রিটিশ বায়োটেকনোলজিস্ট – জৈবিক জীব ব্যবস্থাপনা বা প্রক্রিয়ার প্রয়োগ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয় ।

● ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অফ বায়োটেকনোলজি— বায়োটেকনোলজি হল জৈব রসায়ন , মাইক্রোবায়োলজি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পরিষেবাগুলির সম্মিলিত ব্যবহার যাতে অণুজীব , কলা , কোষ এবং ইহার অংশগুলির ক্ষমতার প্রযুক্তিগত প্রয়োগ অর্জন করা ।

পুরাতন বায়োটেকনোলজির উদাহরণ :

গাঁজন প্রক্রিয়া— ইস্ট ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট , সুগার এবং স্টার্চকে অ্যাসিড , গ্যাস এবং অ্যালকোহলে পরিণত করা হয়ে থাকে ।

গাঁজন প্রক্রিয়ার কয়েকটি উদাহরণ :

দুধের দইতে রূপান্তর- ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে দুধের মধ্যে থাকা ল্যাকটোজ সুগারকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তর করা হয় । প্রথমে দুধকে 30-40 ° C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয় এবং তারপর ধীরে ধীরে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়াকে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে দুধকে দইতে পরিণত করা হয় ।

অ্যালকোহলজাত তরল উৎপাদন- স্বল্প অক্সিজেনযুক্ত অবস্থায় ইস্ট ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেটকে ইথানলে পরিণত করে অ্যালকোহলজাত তরল উৎপাদন করা হয়ে থাকে ।

আধুনিক বায়োটেকনোলজি :

আধুনিক বায়োটেকনোলজির উদাহরণ হল— বিটি কটন , বিটি ব্রিঞ্জাল , E - Coli ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে কৃত্রিম ইনসুলিন হিসাবে ব্যবহৃত হিউমুলিন উৎপাদন , ফ্ল্যাভর স্যাবর টম্যাটো উৎপাদন প্রভৃতি ।

আধুনিক বায়োটেকনোলজির দুই মূল কৌশল :

১। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং— এই কৌশলের মাধ্যমে জেনেটিক উপাদানের রসায়ন বা রাসায়নিক প্রকৃতি পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহৃত হয় । হোস্ট জীবে এটি প্রবেশের মাধ্যমে হোস্ট জীবের ফোনোটাইপ পরিবর্তন করা হয়ে থাকে ।

২। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং— এটি জীবাণুমুক্ত জীবাণুর অবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ কৌশল যা অ্যান্টিবায়োটিক , ভ্যাকসিন , উৎসচেকের মতো বায়োটেকনোলজিক্যাল পণ্য তৈরির জন্য পছন্দসই জীবাণু বা ইউক্যারিওটিক কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত তথ্য-

ভেক্টর বা বাহক— ভেক্টর বা বাহক হল এক ধরনের ডিএনএ অণু যা বিদেশি ডিএনএ সেগমেন্ট বহণ করে এবং হোস্ট কোষের মধ্যে প্রতিলিপি গঠন করে ।

উন্নত ভেক্টর বা বাহকের বৈশিষ্ট্য :

১। এটি হোস্ট কোষের মধ্যে প্রতিলিপি গঠন করে ।
২। ভেক্টরটি আকৃতিতে ক্ষুদ্র হয় । সাধারণত 10 kb এর কম হয় ।
৩। এটি রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ অণুর অসংখ্য কপি তৈরি করতে পারে এবং তা কন্যা কোষে প্রেরণ করতে পারে ।
সাধারণত ব্যবহৃত ক্লোনিং ভেক্টর হল প্লাসমিড এবং ব্যাকটেরিওফাজ ।

প্লাসমিড : ১৯৫২ সালে উইলিয়াম হেস ও জোসুয়া লিডারবার্গ প্লাসমিড আবিষ্কার করেন । ইহা গোলাকার হয় এবং এটি অতি ক্রোমোজোমযুক্ত ডিএনএ অণু । ইহা ব্যাকটেরিও কোষে স্বাধীনভাবে থাকে এবং ইস্টের মধ্যেও এটি লক্ষ করা যায় । ইহা সাধারণত এক বা একাধিক জিন বহণ করে এবং হোস্ট ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সহায়তা করে ।

ব্যাকটেরিওফাজ : এটি এক ধরনের ভাইরাস যা ব্যাকটেরিয়াকে আক্রান্ত করে । ইহাদের কেবল মস্তিষ্ক ও লেজ রয়েছে । জিনগত উপাদান হিসাবে ইহা মূলত ডিএনএ বহণ করলেও কখনো কখনো আরএনএ বহণ করে থাকে । ইহা একটি প্রোটিনযুক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে যা ক্যাপসিড নামে পরিচিত ।

উৎসেচক : রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি জীববিদ্যার বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে , যার মধ্যে অন্যতম হল উৎসেচক । জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং - এর জন্য ব্যবহৃত প্রধান ডিএনএ ম্যানপুলেটিভ উৎসেচকগুলি নিম্ন প্রকারের হয়ে থাকে , যথা-

১। লাইসিং উৎসেচক : ডিএনএ - এর নির্গমনের জন্য কোষীয় উপাদান ভাঙতে এই উৎসেচক ব্যবহার করা হয়ে থাকে । উদাহরণ ব্যাকটেরিয়াল কোষকে ভাঙতে লাইসোজোম উৎসেচক ব্যবহৃত হয় ।

২। ক্লিভিং উৎসেচক : ডিএনএ - কে ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভাজিত করতে ইহা ব্যবহৃত হয় । ইহা দু’প্রকারের , যথা- এক্সোনিউক্লিয়াসেস এবং এন্ডোনিউক্লিয়েসেস ।

৩। সংশ্লেষিত উৎসেচক : উপযুক্ত টেম্পপ্লেটগুলিতে ডিএনএ স্ট্যান্ড সংশ্লেষণ করতে ব্যবহৃত হয় । ইহা দুই প্রকারের যথা- রিভার্স ট্রান্সক্রিফটেজ এবং ডিএনএ পলিমারেজ ।

রিভার্স ট্রান্সক্রিফটেজ : ডিএনএ স্ট্র্যান্ড আরএনএ সংশ্লেষ করতে এই উৎসেচক ব্যবহৃত হয় ।

ডিএনএ পলিমারেজ : ডিএনএ টেমপ্লেটগুলি সংশ্লেষণে সহায়তা করে ।

হোস্টকোষ : একটি উপযুক্ত জীব যেটি রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ অণুর বংশবৃদ্ধির জন্য হোস্ট হিসাবে কাজ করে এবং কাঙ্খিত জিনের মাধ্যমে ক্লোন করা যায় , তাকে হোস্ট সেল বলা হয় ।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং- এর বিভিন্ন কৌশল :

পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন- ১৯৮৩ সালে ক্যারি মুলিস এটি নির্মাণ করেন যার জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন । এই কৌশল প্রধানত নির্বাচনী ডিএনএ সিকোয়েন্সের পরিবর্ধনের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে । ইহা প্রধান তিনটি পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটে থাকে , যথা-

ডিন্যাচুরেশন : 94 ° C তাপমাত্রায় এটি ব্যবহার করা হয় যার মাধ্যমে দ্বিতন্ত্রী ডিএনএ অণু বিভাজিত হয়ে যায় ।

অ্যানহেলিং : দ্বিতীয় পর্যায়ে 55 ° C তাপমাত্রায় এটি করা হয় । এই পর্যায়ে টেমপ্লেট ডিএনএ অণুর সহিত ক্ষুদ্র ওলিগোনিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স প্রাইমারের সংযুক্তিকরণ ঘটানো হয় ।

প্রাইমারের বর্ধিতকরণ : এটি গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় পর্যায় । 75 ° C তাপমাত্রায় ডিএনএ সংশ্লেষিত হয়ে থাকে । এই পর্যায়ে ব্যাকটোরিয়াল স্টেন থার্মাস অ্যাকুয়াটিকাস থেকে ডিএনএ পলিমারেজ তৈরি হয় ।
এই কৌশল ব্যবহারের মূল কারণ হল ব্যাকটেরিয়ার উচ্চ তাপমাত্রা সহ্যকরণের ক্ষমতা । থার্মোস্টেবল ডিএনএ পলিমারেজের সহ উপাদান হিসাবে Mg2+ ব্যবহৃত হয় । এই কৌশল বহুবার ব্যবহৃত হয় আকাঙ্খিত ডিএনএ - র বহু সংখ্যক কপি পাওয়ার জন্য ।

র‍্যান্ডম অ্যামপ্লিফিকেশন অফ পলিমরফিক ডিএনএ : ইহা এক ধরনের পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন , যেখানে ডিএনএ এর অংশ এলোমেলোভাবে পরিবর্ধিত হয় ।

রেসট্রিকশন ফ্রেগমেন্ট লেন্স পলিমরপিজম : ইহার মাধ্যমে ডিএনএ অণুর দুটি পৃথক বৈশিষ্ট্যকে পৃথকীকরণ করা হয় । এই ল্যাবরেটরি টেকনিকের সহায়তায় ডিএনএ অণুর দুটি ফিঙ্গার প্রিন্টিং এবং প্যাটারনিটি টেস্টিং এর কাজ করা হয়ে থাকে ।

ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টিং : ইহা ডিএনএ টাইপিং বা জেনেটিক ফিঙ্গার প্রিন্টিং নামেও পরিচিত । এই কৌশলের মাধ্যমে ডিএনএ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্ত করা যায় । ১৯৮৪ সালে স্যার অ্যালেক্স জেফরি এই কৌশল সৃষ্টি করেন । প্রতিটি মানুষে ডিএনএ - র 99.9 % বিন্যাস এক হয় । কেবলমাত্র 0.1 % ভিন্ন হয় আর এই মাধ্যমেই দুই ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায় । প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে নির্দিষ্ট সুসজ্জিত নিউক্লিওটাইডের বিন্যাস লক্ষ্য করা যায় , যা প্রোটিন সংশ্লেষ সম্পর্কিত কোন তথ্য বহন করে না । এই নির্দিষ্ট বিন্যাস জিনোমের মধ্যে বার বার পরিবর্তিত হতে থাকে । এই অবস্থান Variable Number Tandem Repeats ( VNTRs ) বা মিনি স্যাটেলাইট নামে পরিচিত । এই VNTRs জেনেটিক মার্কার হিসাবে ব্যবহৃত হয় যা একজন ব্যক্তি তার পিতামাতা থেকে পেয়ে থাকে । এই VNTRs কেবলমাত্র যমজ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এক হয় । জেনেটিক ফিঙ্গার প্রিন্টিং এর রক্ত , লালা , চুল , সিয়েমেন বা অন্যান্য ব্যক্তিগত উপাদান যেমন রেজর , টুথব্রাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে ।

ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টিং এর ব্যবহার :

১। ধর্ষণ , খুনসহ অন্যান্য অপরাধী চিহ্নিত করণে এই কৌশল ব্যবহৃত হয় ।
২। মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব বিষয়ক বিবাদ পুরীকরণে সহায়তা করে ।
৩। বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের প্রজনন প্রোগ্রামে সহায়তা প্রদান করা ।

জিন থেরাপি : এটি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল যার মাধ্যমে জিনগত রোগের চিকিৎসা করা হয় ।

বিভিন্ন ধরনের জিন থেরাপি পদ্ধতি :

সোমাটিক জিন থেরাপি পদ্ধতি : যে পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তির দেহে সোমাটিক কোষ প্রবেশ করানো হয়ে থাকে , তাকে সোমাটিক জিন থেরাপি পদ্ধতি বলা হয় ।

জার্মলাইন জিন থেরাপি পদ্ধতি : এই পদ্ধতির মাধ্যমে জনন কোষ যথা- শুক্রানু ও ডিম্বানুকে কার্যকরী জিনের সহায়তায় পরিবর্তিত করা হয়ে থাকে , যা তাদের জিনোমে একত্রিত হয় ।

ক্লোনিং : জিনগতভাবে অভিন্ন জীবের সৃষ্টি করাকে ক্লোনিং বলে । এটি সাধারণত সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার বা SCNT এর মাধ্যমে জিনগতভাবে অভিন্ন জীব সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয় ।
ডলি নামক ভেড়া হল জীবজগতের প্রথম ক্লোনিংজাত প্রাণী যা স্কটল্যান্ডের রসলিন ইউনিভার্সিটিতে সৃষ্টি করা হয়েছিল ।

ক্লোনিং পরীক্ষা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

● ১৯৫২ সালে রবার্ট ব্রিগস এবং থমাস জে কিং সফলভাবে নর্দান লিওপার্দ ফ্রগের ক্লোনিংজাত ব্যাঙাচি সৃষ্টি করেন ।
● ১৯৬৩ সালে চীনের ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ টং ডিজু বিশ্বে প্রথমবার মাছের ক্লোনিং সৃষ্টি করেন । এটি তিনি করেন পুরুষ কার্পের দেহ কোষ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে এবং তা স্ত্রী কার্পের ডিম্বানুতে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে ।
● ১৯৮৬ সালে প্রথম স্ত্রী ইঁদুরের ক্লোন সৃষ্টি করা হয়েছিল ভ্রূণ কোষ থেকে যা প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী । সোভিয়েতের বিজ্ঞানীগণ এই পরীক্ষা সফলতার সঙ্গে করেছিলেন । এর নাম রাখা হয়েছিল ' মাসা ' ।
● ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে অ্যাডভান্সড কোষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথম মানব হাইব্রিড ক্লোন সৃষ্টি করা হয় ।
● ২০০০ সালে ভ্রূণ বিভাজনের মাধ্যমে রিসাস বাঁদর টেট্রা সৃষ্টি করা হয়েছিল ।
● ২০০১ সালে প্রথম বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী গৌর সৃষ্টি করা হয় ।
● ২০০৪ সালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে প্রথম স্ত্রী বিড়াল ক্লোন লিটল নিকি সৃষ্টি করা হয়েছিল ।
● ২০০৩ সালে প্রথম পুরুষ ইঁদুর র‍্যাম্ফের ক্লোন সৃষ্টি করা হয়েছিল ।
● ২০০৩ সালে প্রথম ঘোড়া গোত্ৰজাত ক্লোন মুলে ইদাহ জেম সৃষ্টি করা হয়েছিল ।
● ২০০৩ সালে প্রথম ঘোড়ার ক্লোন প্রমিটির সৃষ্টি করা হয়েছিল ।
● ২০০৫ সালে প্রথম কুকুর ক্লোন সুফি সৃষ্টি করা হয়েছিল ।
● ২০০৯ সালে ভারতের কার্নাল ন্যাশনাল ডেয়ারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে প্রথম ভারতীয় মোষের ক্লোন সৃষ্টি করা হয়েছিল , যার নাম সমরূপা । কিন্তু , এই জীবটির ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে মৃত্যু ঘটে ।
● ২০০৯ সালে প্রথম বিলুপ্ত প্রাণী পাইরেনিয়ান আইব্যাক্সের ক্লোন সৃষ্টি করা হয়েছিল , কিন্তু সাত মিনিটের মাথায় ফুসফুসের অসংগতির কারনে জীবটির মৃত্যু ঘটে ।
● ২০০৯ সালে উটের প্রথম ক্লোন ইনজাদের সৃষ্টি করা হয়েছিল ।
● ২০১২ সালে পসমিনা ছাগলের প্রথম ক্লোন মুরি সৃষ্টি করা হয়েছিল । শের - এ কাশ্মীর ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাগ্রিকালচার সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির পশু চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং পশুপালন বৈজ্ঞানিকরা অ্যাডভান্সড রিপ্রোডাকটিভ কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে এই সফল পরীক্ষা করেন ।

হিউম্যান জিনোম প্রোজেক্ট : ১৯৯০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি দপ্তর এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের তরফ থেকে এই প্রোজেক্টের সূচনা হয় , যা ২০০৩ সালে সম্পূর্ণ হয় । এই প্রোজেক্টের মুল উদ্দেশ্য হল মানুষের প্রতিটি জিনের ম্যাপিং সম্পূর্ণ করা । এই প্রোজেক্ট বায়োটেকনোলজির দ্রুত উন্নয়নশীল এলাকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং ইহা বায়োইনফার্মোটিক্স বা জৈব তথ্য বিজ্ঞান নামে পরিচিত । এই প্রোজেক্টের মাধ্যমে জানা যায় মানব দেহে ২০,০০০-২৫,০০০টি জিন রয়েছে এবং তাদের গঠন এবং কার্যাবলী সম্পর্কিত বহু তথ্য পাওয়া গেছে । ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ' নেচার ' পত্রিকায় ' ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান জিনোম সিকোয়েন্স ' প্রকাশিত হয়েছিল এবং ২০০৩ সালের এপ্রিলে সমগ্র সিকোয়েন্স প্রকাশিত হয়েছিল । এই প্রোজেক্ট অসুখ , স্তন ক্যান্সার , হোমিও - স্ট্যাটিস ব্যাধি— প্রভৃতির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ।

বায়োটেকনোলজির ব্যবহার :

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় । যেমন স্বাস্থ্য পরিষেবা , শস্য উৎপাদন ও কৃষি , শস্যের অখাদ্য হিসাবে ব্যবহার এবং পরিবেশগত ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় ।

● ওষুধ- ফার্মাসিউটিক্যাল ড্রাগ আবিষ্কার এবং উৎপাদন , ফার্মাকোজেনমিক্স এবং জিনগত পরীক্ষার জন্য বায়োটেকনোলজি ব্যবহৃত হয় । ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র অণুর আবিষ্কার ও উৎপাদনে বায়োটেকনোলজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ।

● ভ্যাকসিন এবং ড্রাগ— ভ্যাকসিন এবং ড্রাগ সৃষ্টিতে বায়োটেকনোলজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । বর্তমানে ব্যবহৃত হেপাটাইটিস - বি ভ্যাকসিন ইস্টের কোষ থেকে উৎপাদন করা হয়ে থাকে ।

● অ্যান্টিবায়োটিক— বায়োটেকনোলজির ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ছত্রাকজাত ও ব্যাকটেরিয়াজাত অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন সম্ভবপর হয়েছে ।

কয়েকটি ছত্রাকজাত অ্যান্টিবায়োটিকের উৎস ও ব্যবহার :

নাম উৎস ব্যবহার
পেনিসিলিন পেনিসিলিয়াম নোটেটাম গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া নিউমোনিয়া , রিউম্যাটিক জ্বর এবং টনশিলাইটিসের জন্য ব্যবহৃত হয় ।
গ্রিসিওফুলবিন পেনিসিলিয়াম গ্রিসিওফুলবাম মাইকোসিসের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় ।
সেফালোস্পেরিন সেফালোস্পেরিয়াম অ্যাক্রিমনিয়ম গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া , টাইফয়েড প্রভৃতির জন্য ব্যবহৃত হয় ।
জহরেন্স অ্যাসপারজিলাস প্রজাতি স্মলপক্স , ইনফ্লুয়েঞ্জা , লিউকোডার্মা প্রভৃতির জন্য ব্যবহৃত হয় ।
ক্ল্যাভিসিন অ্যাসপারজিলাস ক্ল্যাভাটাস সমস্ত ধরনের ছত্রাকজনিত রোগের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
ফ্ল্যাভিসিন অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস এবং অ্যাসপারজিলাস ফুমিগেটাস ব্যাকটেরিয়াজাত রোগের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।

কয়েকটি ব্যাকটেরিয়াল অ্যান্টিবায়োটিকের উৎস ও ব্যবহার :

নাম উৎস ব্যবহার
স্ট্রেপটোমাইসিন স্ট্রেপটোমাইসিন গ্রিসিয়াস গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া , র‍্যারিট ফিবার ইনফ্লুয়েঞ্জা , মেনিনজাইটিস , রক্ত আমাশয় প্রভৃতির বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হত ।
অ্যাক্টিডিন স্ট্রেপটোমাইসিন গ্রিসিয়াস ছত্রাকের কারণে ঘটিত উদ্ভিদ রোগের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহৃত হত ।
ক্লোরোমাইটেসিন স্ট্রেপটোকক্কাস ভেনিজুয়েলা গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া , টাইফয়েড , রিকেটসিয়াস প্রভৃতি রোগের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হত ।
টেট্রাসাইক্লিন স্ট্রেপটোকক্কাস অরিফেসিয়েন্স গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া , রিকেটসিয়াস রোগের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
টেরামাইসিন স্ট্রেপটোকক্কাস রিমোসাস গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
এরিথ্রোমাইসিন স্ট্রেপটোকক্কাস এরিথ্রেরাস গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া , হুপিং কফ এবং ডিপথেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
নিওমাইসিন স্ট্রেপটোকক্কাস ফ্লাডিয়া গ্রাম পজিটিভ , গ্রাম নেগেটিভ এবং টিবি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
অ্যাম্পোমাইসিন স্ট্রেপটোকক্কাস ক্যারাস গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
অ্যাম্পোটেরিসিন স্ট্রেপটোকক্কাস নোডোসাস ইস্ট ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
লিউকোমাইসিন স্ট্রেপটোকক্কাস বিটাসোয়েনসিস গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
ট্রিকোমাইসিন স্ট্রেপটোকক্কাস হাচিজোয়েনসিস ইস্ট এবং ছত্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
ভায়োমাইসিন স্ট্রেপটোকক্কাস ফ্লোরিডা গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া এবং টিবি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
ব্যাসিট্রাসিন ব্যাসিলাস সাবটিলিয়াস গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
গ্রামিসিডিন ব্যাসিলাস ব্রেবিস গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
টাইরোট্রিসিন ব্যাসিলাস ব্রেবিস গ্রাম পজিটিভ ও গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।
পলিমিক্সিন - বি অ্যারোব্যাসিলাস পলিমিক্স গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় ।

ট্রান্সজেনিক প্রাণী : যে সকল প্রাণীর জিনগত উপাদান বিদেশি জিন প্রবেশের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় , সেই সকল প্রাণীকে ট্রান্সজেনিক প্রাণী বলা হয় । এই সকল প্রাণী চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে , যেমন— নতুন রোগের চিকিৎসা , রোগের গবেষণা , জৈব দ্রব্যের উৎপাদন , মানুষের শরীরে টিকা প্রদানের পূর্বে পরীক্ষা , ড্রাগের বিষাক্ততা পরীক্ষা প্রভৃতির জন্য এই প্রাণী ব্যবহৃত হয় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্ত্রী ইঁদুরকে ট্রান্সজেনিক প্রাণী হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

কৃষি : কৃষিক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লক্ষ্য করা যায় । এর প্রধান উদ্দেশ্য হল ফসলের উৎপাদন বাড়ানো । নিম্নলিখিত তিনটি বিষয়ের সঙ্গে বায়োটেকনোলজি যুক্ত , যথা— ( ১ ) কৃষি রাসায়নিক ভিত্তিক কৃষি , ( ২ ) জৈবিক কৃষিকাজ , ( ৩ ) জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার শস্যভিত্তিক কৃষিকাজ ।

বায়োটেকনোলজি যুক্ত কৃষিকার্যের অন্যতম নিদর্শন হল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন গমের বৈচিত্র ।

কৃষি রাসায়নিক ভিত্তিক কৃষি : কীটনাশক এবং সার মূলত কৃষি রাসায়নিক ভিত্তিক কৃষিকার্যের জন্য ব্যবহৃত হলেও পরিবেশের জন্য তা ক্ষতিকারক । তাছাড়া , ভারতের মতো দেশের জন্য এটি ব্যয়বহুল । যদি কৃষিকার্যের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিকের নিয়মিত ব্যবহার শস্যের উন্নতিতে সহায়তা করে ।

জৈবিক কৃষিকাজ : জৈবিক কৃষি জীববৈচিত্র , জৈবিক চক্র , মাটির জৈবিক কার্যকলাপসহ কৃষি ইকোসিস্টেম স্বাস্থ্যকে উন্নত করে । এটি কৃষিবিদ্যা , জৈবিক চক্র এবং মৃত্তিকা জীববিজ্ঞান কার্যকলাপ ব্যবহারের উপর জোর দেয় এবং সিন্থেটিক উপাদানের ব্যবহার থেকে বিরত রাখে । খননকৃত রকফসফেট , পটাশ ও চুনাপাথরের সালফেট জৈব সার হিসাবে ব্যবহৃত হয় ।

জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার শস্যভিত্তিক কৃষিকাজ : জৈবিক কৃষি যেহেতু ফসলের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করতে পারে না , সেই কারণে জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার শস্যভিত্তিক কৃষিকাজ গৃহীত হয় । এর মাধ্যমে জিনগত রূপান্তরিত শস্য উৎপাদন করা হয়ে থাকে । এই শস্যে উদ্ভিদ , ব্যাকটেরিয়া , ছত্রাক এবং প্রাণীর জিন ব্যবহার করা হয় উন্নতমানের ফসল উৎপাদনের জন্য । যে সমস্ত শস্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশি জিন প্রবেশ করানো হয় তা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড শস্য নামে পরিচিত ।

কয়েকটি জিনগতভাবে রূপান্তরিত শস্য :

পেপে : রিং স্পট ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন হয় ।

গোল্ডেন রাইস : ইহা বিটা - ক্যারোটিনযুক্ত হয় যা ভিটামিন- A এর অগ্রদূত এবং এটি এক ধরনের চাল ।

ফ্ল্যাভর স্যাবর টম্যাটো : এটি হল প্রথম জেনেটিক্যালি মডিফায়েড শস্য যা বহুদিন নষ্ট না হয়ে থাকতে পারে । এই শস্য পাকতে বেশি সময় লাগে , কীটপতঙ্গ প্রতিরোধ সম্পন্ন , প্রো - ভিটামিন- A যুক্ত , পরিবেশের চাপ সহনশীলতা সম্পন্ন , উন্নত স্বাদযুক্ত হয় ।

ক্যানোলো : ইহা র‍্যাপসিড বা ক্ষেত সরিষার জিনগতভাবে রূপান্তরিত শস্য যা আমাদের ভোজ্য তেলের জোগান দেয় এবং ইহা মানুষ ও পশুর গ্রহণের জন্য উপযুক্ত । এছাড়া ইহা বায়োডিজেল হিসাবেও ব্যবহারযোগ্য ।

বিটি কটন : ইহা কীটপতঙ্গ প্রতিরোধ সম্পন্ন । Bacillus Thurigienesis ( B + ) ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় এই কটন উৎপাদন করা হয় যা উন্নত ধরনের ।

বিটি ব্রিঞ্জাল : ইহা একধনের জেনেটিক্যালি মডিফায়েড শস্য যা বেগুনের একটি বৈচিত্র । ব্যাকটেরিয়াম Bacillus Thurigienesis ( B + ) এর সহায়তায় এটি উৎপাদন করা হয় ।

প্রজনন ও ভ্রূণবিদ্যা : প্রজনন ও ভ্রূণবিদ্যা ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ।

ইন - ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন : এই প্রক্রিয়ায় দেহের বাইরে ডিম্বানুকে শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত করা হয় । এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্ত্রী দেহের ডিম্বস্ফোটন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা , ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু অপসারিত করে পরীক্ষাগারে তরল মাধ্যমে নিষিক্ত করা হয় । এই নিষিক্ত ডিম্বানু অন্য স্ত্রীদেহের জরায়ুতে স্থাপনের মাধ্যমে সফল গর্ভবতী অবস্থার সৃষ্টি করা হয় । এই প্রক্রিয়া ' টেস্ট টিউব বেবি ' নামেও পরিচিত । রবার্ট জি এডওয়ার্ডস এবং প্যাট্রিক স্ট্রেপটো এই প্রক্রিয়ার সৃষ্টিকারক । এই প্রক্রিয়া ডিম্বানু দান বা সারোগেসির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় । অর্থাৎ , ডিম্বানু দানকারী ও গর্ভবতী মহিলা এক নন । এই প্রক্রিয়া সেই সকল স্ত্রী দেহে প্রয়োগ করা যাবে যারা ইতিমধ্যে মেনোপজের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছেন ।

গ্যামেটা ইনট্রা ফ্যালোপিয়ান ট্রান্সফার : এই প্রক্রিয়ায় স্ত্রী ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু নিষ্কাশন করে তা পুরুষ শুক্রানুর সঙ্গে ফ্যালোপিয়ান টিউবে স্থাপিত করা হয় । এই কৌশলের উদ্ভাবক হলেন রিকার্ডো আস ।

জাইগোট ইনট্রা ফ্যালোপিয়ান ট্রান্সফার : ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রতিবন্ধকতার কারণে ডিম্বানু ও শুক্রানুর মিলন বাধাপ্রাপ্ত হলে সেই স্থানে এই প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয় । এই প্রক্রিয়ায় ডিম্বানু স্ত্রী দেহ থেকে নিষ্কাশন করে এবং ইন ভিট্রো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষিক্তকরণ করে লেপ্রোস্কোপির মাধ্যমে জাইগোটকে ফ্যালোপিয়ান টিউবে স্থাপন করা হয় ।

পরিবেশগত বায়োটেকনোলজি : প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়ে বায়োটেকনোলজির নিম্নলিখিত ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় :

~ ব্লু বায়োটেকনোলজি : সামুদ্রিক এবং জলজ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ।
~ গ্লিন বায়োটেকনোলজি : কৃষিকার্যে ব্যবহৃত হয় ।
~ রেড বায়োটেকনোলজি : চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ।
~ হোয়াইট বায়োটেকনোলজি : শিল্প প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post