ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস বা ইউপিআই (UPI) সম্পর্কিত ধারণা

ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস

ভারতীয় ব্যাকিংয়ের একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার হল ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস বা ইউপিআই । ভারতের যেকোনো দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে আর্থিক লেনদেন করার জন্য ইউপিআই মাধ্যম ব্যবহৃত হয় , এক্ষেত্রে জটিলতা অনেক কম । স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইউপিআই ব্যবহৃত হয় । এই ব্যবস্থা লঞ্চ করা হয়েছিল ২০১৩ সালে ।

★ নেফট / আরটিজিএস - এর সাথে ইউপিআই এর পার্থক্য :

১। ইউপিতাই তার মাধ্যমে যেকোনো জায়গা থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা যাবে । ইউপিআই এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন । এক্ষেত্রে নেট ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড , ক্রেডিট কার্ড বিবরণ , আইএফএসসি কোড ইত্যাদি দেওয়ার প্রয়োজন নেই ।
২। ইউপিআই - এর মাধ্যমে একাধারে টাকা প্রেরণ ও গ্রহণ দুই - ই করা যাবে ।

★ ইউপিআই - এর প্রয়োজনীয়তা :

নেট ব্যাঙ্কিংয়ের প্রচলনের পর ভারতে ক্যাশ ট্রাঞ্জাকশনের মাত্রা বেশি ( ৯৫ % ) । ইউপিআই হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত । এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বহুলাংশে বেড়েছে ।

★ ইউপিআই এর নির্মাণকারী :

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে ইউপিআই তৈরি করেছে ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া ( এনপিসিআই ) । এটি ইমিডিয়েট পেমেন্ট সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক ।

★ ইউপিআই ব্যবহার করার পদ্ধতি :

১ । নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের ইউপিআই অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে ইনস্টল করে নিতে হবে ।
২। অ্যাপে লগ ইন করতে হবে ।
৩। একটি ভার্চুয়াল পেমেন্ট অ্যাড্রেস ( VPA ) তৈরি করতে হবে ।
৪। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অ্যাড করতে হবে ।
৫। MPIN সেট করতে হবে ।
৬। ইউপিআই - এর মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে ।

★ MPIN কী ?

মোবাইল ব্যাঙ্কিং এর জন্য রেজিস্টার করলে গ্রাহকদের ৪/৬ ডিজিট বিশিষ্ট একটি পিন দেওয়া হয় , যেটি আর্থিক লেনদেনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে ।

★ ইউপিআই লেনদেনের পদ্ধতি :

ইউপিআই ব্যবহার করে গ্রাহকরা যদি কোনো কিছু ক্রয় করতে চান তাহলে তাদের অ্যাপের ‘ বায় ' অপশনে ক্লিক করতে হবে । তখন একটি ইউপিআই পেমেন্ট লিংক খুলবে । তারপর ইউপিআই APP- র পে স্ক্রিনে যেতে হবে , সেখানে লেনদেন বিষয়ক তথ্য যাচাই করা হবে ও পিন দেওয়ার পর লেনদেন সম্পন্ন হবে ।

★ ইউপিআই কতটা সুরক্ষিত ?

১। এক্ষেত্রে গ্রাহকরা যেহেতু একটি ভার্চুয়াল পেমেন্ট অ্যাড্রেস ব্যবহার করে অনলাইন লেনদেন করছেন , তাই এটি অনেকাংশে নিরাপদ । ভিপিএটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রায় সমান ।
২। এক্ষেত্রে যেহেতু কেবলমাত্র ভিপিএ ব্যবহার করা হয় , আর্থিক লেনদেনের সময় ডেবিট / ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়না ।

★ ইউপিআই এর মাধ্যমে কী কী লেনদেন সম্পন্ন হয় ?

মার্চেন্ট পেমেন্ট , রেমিট্যান্স , বিল পেমেন্ট ইত্যাদি ।
ট্রাঞ্জাকশন লিমিট : ১ লক্ষ টাকা প্রতি লেনদেন

★ ইউপিআই সার্ভিস প্রোভাইডার :

বর্তমানে ব্যাঙ্ক এবং ওয়ালেট ইউপিআই এর সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করে ।

★ ইউপিআই - এর গুরুত্ব :

১। কালেক্ট পেমেন্ট অপশনের মাধ্যমে ' পারসন টু বিজনেস ' ব্যবসাকে ত্বরান্বিত করা ; এটি ভারতীয় অর্থনীতির উন্নয়নেও সহায়ক ।
২। অর্থনীতিতে নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে সাহায্য করা ; বর্তমানে ভারতে নগদ টাকার ব্যবহার ১২ % ।
৩। বার্ষিক কারেন্সি ট্রানজাকশনের খরচ কমাতেও সাহায্য করা ; ভারতে বার্ষিক কারেন্সি ট্রানজাকশনের খরচ হল ২০০০০ কোটি টাকা ।

★ ইউপিআই ব্যাবহারের অসুবিধা :

১। রিফান্ডের বিষয়টি আপাতত ইউপিআই এর আওতায় পড়ে না ; এনপিসিআই বিষয়টি তত্ত্বাবধান করে ।
২। ট্রানজাকশন লিমিটটি খুবই কম যা ব্যবসায়িক লেনদেনের পক্ষে বেশ অসুবিধাজনক ।

★ উপসংহার :

এনপিসিআই - এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে ইউপিআই - এর মাধ্যমে দেশে রেকর্ড ট্রানজাকশন হয়েছে । এক্ষেত্রে ভলিউম ৩৮ বিলিয়ন ও ভ্যালু ৭১.৫৯ ট্রিলিয়ন । ২০২১-২২ অর্থবর্ষে এ যাবৎ মোট ৩১ বিলিয়ন ট্রানজাকশন ছাড়িয়ে গেছে যা গত বছরের তুলনায় বেশি , লক্ষ্যমাত্রা আছে ৪০-৪২ বিলিয়ন ট্রানজাকশন ছোঁয়ার ।

ফেব্রুয়ারি , ২০২২ - এ ইউপিঅহিেেত অংশগ্রহণকারী মোট ব্যাঙ্কের সংখ্যা ৩০৪ , মোট ট্রানজাকশন ভলিউম ৪527.49 মিলিয়ন এবং মোট ট্রানজাকশন ভ্যালু ৮২৬৮৪৩ কোটি টাকা ।

Thanks for your comment. We review and answer your comment.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post